মন্ত্রিসভার রদবদল, নতুন চমক থাকছে?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ছিলেন তাদেরকে সরিয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ্য ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু করোনা সং’কট, রোজা ও ঈদের কারনে সময় গড়িয়েছে বেশ। এদিকে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরনের রদবদল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোন সময় ঘোষণা দিতে পারেন।

আগামী ১১ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তবে মন্ত্রিসভায় রদবদল বাজেটের আগে নাকি পরে হবে- নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে করোনার সাথে বসবাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, এ মুহূর্তে একটি দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম মন্ত্রিসভা দরকার তার। যা হয়ত অচিরেই দেখা যাবে। শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্যই মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে ধারনা।

উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ২০১৪ সালে যখন বিএনপি জামায়াতের তা’ণ্ডব শুরু হয়, তখন শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় রদবদল করে হেভিওয়েটদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সে সময় তোফায়েল আহমেদ, হাসানুল হক ইনু, আমির হোসেন আমুদের মন্ত্রিসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই মন্ত্রিসভায় ইনু বাদে বাকি দু’জন মন্ত্রিসভায় যোগদান করেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিমের মতো হেভিওয়েটরা স্থান পেয়েছেন।

বর্তমানে সরকার ত্রিমূখী সং’কটে রয়েছে। প্রথমত, করোনা পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যেতে পারে, তা আমাদের অজানা। যদি পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়, তাহলে তা মোকাবেলা করার জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রজ্ঞাবান ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের দরকার।

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সং’কট মোকাবেলা করা। গত ২ মাস সবকিছু বন্ধ থাকার ফলে এমনিই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সং’কটে পড়েছে। অভিবাসন খাতে একটি বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। এর ফলে বিদেশি রেমিটেন্স আসার পরিমাণও কমে গেছে। এছাড়া আমাদের রপ্তানি আয়ের উপর একটি নে’তিবাচক প্রভাব তো আছেই। কাজেই এ সময়ে এমন লোকদের দরকার যারা অভিজ্ঞ এবং পরীক্ষিত। একইসাথে আন্তর্জাতিক দেনদরবারে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে সক্ষম।

আর তৃতীয়ত, বিভিন্ন সং’কটকে কাজে লাগিয়ে বিরো’ধী রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করবে। এ কারনে রাজনীতির মাঠ যেন বিরো’ধী দল দখ’লে নিতে না পারে, সেজন্য হেভিওয়েট নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এই বাস্তবতা থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ছক কষছেন বলে সূত্রের খবর।

নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু চমক আসতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন অনেক হেভিওয়েটরা, পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে যারা অবদান রাখতে সক্ষম এবং রাজনৈতিকভাবে যারা বেশ গুরুত্ব বহন করেন- এমন কিছু পরীক্ষিত নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার আকৃতি বড় হতে পারে। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে একজন করে প্রতিমন্ত্রীও দেওয়া হতে পারে। যেন কেউ ব্যর্থ হলেও অন্যজন দায়িত্ব সচল রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, যে মন্ত্রণালয়গুলোতে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নেই, সেই মন্ত্রণালয়গুলোতেই কাজের গতি অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী থাকলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং কাজ ভালো হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্ত্রণালয় ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে দলীয় কয়েকটি সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার রদবদলটা সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব এখতিয়ার। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা হিসেবে সংরক্ষিত। তাই তিনি কখন, কীভাবে মন্ত্রিসভার রদবদল করবেন, কখন করবেন, এসব তাঁর একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।

তবে একাধিক সূত্র বলছে, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার রদবদলের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। এখন দেখার বিষয়- কীভাবে, কখন এই মন্ত্রিসভার রদবদল হয় এবং কারা মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে যোগদান করেন বা কারা বাদ পড়েন।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 605
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!