কিসের করোনা! ১০ মিনিটেই ফেরি ফুল লোড!

0

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে রোববার (৩১ মে) থেকে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে গণপরিবহনও। এ অবস্থায় চাকরির ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজ শনিবার (৩০ মে) কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে মানুষের ঢল নেমেছে।

আজ শেষ হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ঘোষিত টানা ৬৬ দিনের ছুটি। এটিই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা ছুটি। এ ছুটির অবসানের ফলে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামছে গণপরিবহনও।

অফিস খোলার খবরে চাকরির ডাকে সাড়া দিয়ে আজ কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-র‌্যুটে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত নামে। কাঁঠালবাড়ির ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে করোনা ভাইরাসের ঝুঁ’কি নিয়েই সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। যাত্রীদের চাপ দেখে দুটি ফেরি বাড়ানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া নৌ-র‌্যুটের যাত্রী চাপ সামাল দিতে আরও দুটি ফেরি সংযুক্ত করা হয়। ফলে এই র‌্যুটে মোট ১৭টি ফেরি এখন চলাচল করছে। আজ প্রতিটি ফেরিতেই উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে যাত্রীদের।

ফেরি এসে ঘাটে ভিড়লেই ১০ মিনিটে ভরে যায়। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দু’র্ভোগ পোহাতে হয়। ঘাটে আসা যাত্রীরা মানছে না সামাজিক দূরত্ব। ফলে করোনার ঝুঁ’কি থেকেই যাচ্ছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীরা যে যেভাবে পারছেন ফেরিতে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন। কারও বাধা-নিষে’ধ মানতে চাইছে না যাত্রীরা। পুলিশ সকাল থেকে ঘাটে দায়িত্ব পালন করছে। মানুষের চাপে স্বল্প সংখ্যক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। যাত্রীদের চাপে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেনকে কখনও ফেরির পন্টুন কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফেরির চালক ও কর্মচারীরা জানান, করোনা সং’ক্রমণের মধ্যে ফেরিগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি উ’পেক্ষা করে চলাচলের কারণে ফেরির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁ’কির মধ্যে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বা অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের প্রয়োজনে লকডাউন দেয়া হলেও সবসময়ই ফেরি চলাচল অ’ব্যাহত রাখা হয়।

কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ম্যানেজার আবদুল আলীম বলেন, গত ৩ দিন ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছোট যানবাহনে হাজার হাজার যাত্রী কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আসছেন। যাত্রীদের চাপে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, ঘাট পর্যন্ত আসতে যাত্রীদের গুনতে হয় ৫/৭ গুণ বেশি ভাড়া। এই নৌ-র‌্যুটে গত আড়াই মাস ধরে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে এই নৌ-র‌্যুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৩টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত পরিবহনের চাপ বাড়তে থাকলে সেগুলো ছাড়ার কথা রয়েছে। ঘাট এলাকায় পুলিশ, আনসার ও নৌ-পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 2.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!