সংরক্ষিত বনে অবাধে শি’কার করছে রাখাইনরা, বনবিভাগ নির্বিকার

0

কুয়াকাটা প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার উপকূলীয় অঞ্চলের সংরক্ষিত বনে আদিবাসী রাখাইন যুবকরা নি’র্বিচারে বন্যপ্রাণী শি’কার করছেন। এয়ারগান, শটগান, চল, লেজা, ছ্যানা ও ফাঁদ পেতে বিলু’প্তপ্রায় পশুপাখি ধরছেন তারা অনেকদিন ধরে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন অ’স্ত্র যত্রতত্র ব্যবহার করছেন তারা।

কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূলভাগের কুয়াকাটা সংরক্ষিত বন, কাউয়ারচর, গঙ্গামতির বন, লেম্বুর বন, চরআন্ডা, ঝাউবন ও সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বনে শুকর, সজারু, গুইসাপ, কুউচ্চা, ঘুঘু, বক, ডাহুক, শালিক, টিয়াসহ নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী ধরতে দিন ও রাতে দলবেঁধে হানা দিচ্ছেন রাখাইন যুবকরা।

কেউ কেউ আবার একে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের দাবি, তারা স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ বন্যপ্রাণী ধরছেন। আইন অনুযায়ী এটি নিষি’দ্ধ জেনেও কিছুর তোয়াক্কা করছেন না তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, গত ২৯ মে কুয়াকাটার কেরানীপাড়ার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ কমিটির নেতা ওয়েন মং উচু, মংচাউ, বুজা, অংচানসহ অন্যরা মিলে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন থেকে একটি সজারু ও ১৫টি গুইসাপ মে’রে নিয়ে যান। শুধু কুয়াকাটার রাখাইন যুবকরাই নয়; পটুয়াখালী, বরগুনা ও তালতলীতে বসবাসরত বিভিন্ন পাড়ার রাখাইন যুবকরা এভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই সঙ্গে পূরণ করেন নিজেদের মাংসের চাহিদা।

সমুদ্র উপকূলের এসব বনে একসময় শুকর, সজারু, চিতাবাঘ, দাসবাঘ, শিয়াল, বানর, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুইসাপ, অজগর, বন্যমুরগী, ঘুঘু, সাদাবক, টিয়া, ডাহুক, ঘড়িয়াল, গাঙচিল, চামচিকাসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ছিল। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারনে বন ধ্বং’স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বন্যপ্রাণীও হারিয়ে গেছে। এখনো যেসব বন্যপ্রাণী প্রতিকূলতার মাঝে টিকে আছে, তা এখন রাখাইনদের পেটে যাচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জন্মভূমি কুয়াকাটার সমন্বয়ক কেএম বাচ্চু জানান, ঝড়-বন্যার সঙ্গে যু’দ্ধ করেও কিছুসংখ্যক বন্যপ্রাণী বেঁচে থাকলেও এখন তা রাখাইন যুবকদের প্রধান টার্গেট।

কুয়াকাটা তরুণ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. ওয়াহিদ বলেন, বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই এসব চলছে; কিন্তু তারা কিছুই বলছেন না। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এ তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর বনকর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বনবিভাগের বন থেকে বন্যপ্রাণী শি’কারের বিষয়টি তিনি অবগত নন। এটি দ’ণ্ডনীয় অপরাধ। এমন ঘটনা ঘটলে আমি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন !
  • 68
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!