বিত্তবানরা পালাচ্ছে দেশ ছেড়ে, অপেক্ষায় আছে আরও

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে যখন করোনার সং’ক্রমণ ভ’য়াবহ আকার ধারণ করেছে তখন আমাদের বিত্তবানরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এতদিন করোনার কারণে বিদেশে যাওয়া বন্ধ ছিল, কিন্তু টাকা থাকলে সবই সম্ভব। বড়লোকরা চার্টার্ড বিমানে করে এখন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এমন ৪ জনের দেশ ছাড়ার খবর পাওয়া গেছে। আরো কয়েকজন পাইপলাইনে আছেন। খুব শীঘ্রই তারাও চলে যাবেন।

বাংলাদেশে যখন করোনা সং’ক্রমণ শুরু হয় তখন বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের স্ব স্ব দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এবং এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো না। এজন্য তাদের দেশের নাগরিকদের তারা নিয়ে যেতে চাইছে। একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কয়েকটি উন্নত দেশ। তারা তখনই আশ’ঙ্কা করেছিল যে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এত দ্রুত সারবার নয় এবং পরিস্থিতির আস্তে আস্তে অবনতি হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, সে সময় অন্যান্য দেশগুলোতে ভ্রমণে নিষে’ধাজ্ঞা ছিল এজন্য বাংলাদেশের বিত্তবানরা পালাতে পারেনি। এমনিতেই তারা কখনোই দেশে চিকিৎসা করান না, তাদের সর্দি-হাঁচি-কাশি-জ্বর হলেও বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান। করোনা তাদেরকে এক মহা সং’কটে ফেলে, তাই তাদেরকে দেশেই থাকতে হয়েছিল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনায় বিত্তবানরাই বেশি আক্রা’ন্ত হচ্ছেন এবং বেশ কয়েকজন মৃ’ত্যুবরণও করেছেন। এই বাস্তবতায় তারা পথ খুঁজছিলেন, সেটা তারা খুঁজে পেয়েছেন।

মোর্শেদ খান সস্ত্রীক চার্টার্ড বিমানে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। অথচ মোর্শেদ খানের বিরু’দ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ছিল এবং দুর্নীতি দম’ন কমিশন তার দেশত্যাগের উপরে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু তারপরেও তিনি কীভাবে দেশের বাইরে গেলেন সে এক বড় প্রশ্ন। টাকা থাকলে কি না হয়!

মোর্শেদ খান ছাড়াও বিদেশে গিয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান। সোহেল এফ রহমানও চার্টার্ড বিমানে সস্ত্রীক যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। তার দেশত্যাগের সাথে মোর্শেদ খানের দেশত্যাগের কোন যোগসূত্র আছে কি না তাও দেখার বিষয়। কারণ তারা দু’জনই আত্মীয়তার সূত্রে আব’দ্ধ।

অবশ্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, তারা দু’জন আলাদা আলাদা বিমানে করে চলে গেছেন। মোর্শেদ খান এবং সোহেল এফ রহমান যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথে অন্যরাও এখন দেশত্যাগের উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছেন। তারা কোথায়, কীভাবে নিরাপদে যেতে পারেন, সেসব দেশের অবস্থা কতটুকু ভালো তা দেখছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশই এখন করোনা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরেছে। যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি আগের থেকে ভালো এবং তারা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। ইউরোপের দেশগুলোতেও স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসছে। নিউজিল্যান্ড করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে সফলভাবে মোকাবেলা করেছে। বাংলাদেশের বিত্তবানদের টার্গেট হলো এই দেশগুলো।

এছাড়াও কয়েকজন ধনী ব্যক্তি আশেপাশের দেশগুলোতেও যাচ্ছেন, যেখানে করোনা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আছে। সিকদার গ্রুপের দুই ভাই রন হক সিকদার এবং দিপু হক সিকদার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা ছেড়ে ব্যাংকক গিয়েছেন। অথচ তাদের বিরু’দ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। একটি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে হ’ত্যাচেষ্টা মামলার আসামী ছিলেন তারা।

বাংলাদেশের বিত্তবানরা উদ্বেগে ছিলেন, করোনা হলে কোথায় চিকিৎসা পাবেন, তাদের কী হবে- তা এখন কাটতে শুরু করেছে। এখন তারা যে কোনোভাবে, যত টাকাই লাগুক বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে, অন্তত ৮ থেকে ১০টি বড় বড় শিল্প গ্রুপের মালিক বিদেশে যেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। চার্টার্ড বিমানসহ নানা পন্থায় দ্রুত দেশত্যাগের উপায় খুঁজছেন। বিত্তবানদের সাধ্য আছে বলে যখন দেশ ছাড়ছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের উপায় কী? দেশের স্বাস্থ্যখাতের ওপর বিত্তবানদের আস্থা নেই, তবে সাধারণ মানুষ এই করোনাকালে যথাযথ চিকিৎসা পাবে তো? এটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 832
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!