করোনা সং’ক্রমণ বড় আকারে ছড়িয়ে পড়লে কী করবে সরকার?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আজ থেকে সব অফিস আদালত খুলে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল সীমিত আকারে সবকিছু খুলছে। তবে বাংলাদেশে যখন সীমিত আকারে ব্যাংক-বাজারহাট খুলে দেওয়া হয়েছিল তখনই উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছিল। আর এখন সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ যে কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে উঠবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশেষ করে ঢাকা শহরে গণপরিবহন, জীবিকার অন্বেষণে মানুষের চলাচলের ফলে যে আবার যানজট এবং সামাজিক দুরত্ব ঘুচে যাবে তা সহজেই অনুমেয়, এবং সেটাই দেখা গেছে দিনভর। আর বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এসব খুলে দিলো, যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা এবং প্রতি ১০০ জনে ২১ জন করোনায় আক্রা’ন্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় যদি আক্রা’ন্তের সংখ্যা বাড়তেই থাকে তাহলে বাংলাদেশ কী করবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখনো করোনার পিক শুরু হয়নি, এটি শুরু হতে হতে মধ্য জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ, গত ২৬শে এপ্রিলের পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ঢাকায় এসেছে, এর ফলে সামাজিক সং’ক্রমণের নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে। আবার ঈদে লোকজন যে বাড়িতে গেছেন এবং এখন আবার যে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছেন, ফলে সামাজিক সং’ক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ এই দ্বিতীয় পর্যায় যদি মধ্য জুন পর্যন্ত থাকে, তখন করোনা পরিস্থিতি পিকে উঠবে। এখন প্রশ্ন, এই মধ্য জুন পর্যন্ত কি করোনার সং’ক্রমণ আরও বাড়বে এবং এটা যদি ক্রমাগত বাড়তেই থাকে তাহলে কী হবে?

সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকার এসব অনুধাবন করেই নতুন প্রজ্ঞাপনে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তগুলো দিয়েছেন। ১৫ জুনের পর পরিস্থিতি বুঝে এই সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা করা হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, আগামী ৫-৬ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ক’দিনে যদি করোনা পরিস্থিতি উর্ধ্বগতি হয় তাহলে সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা করা হতে পারে।

করোনা মোকাবেলায় গঠিত পরামর্শক কমিটির সদস্য ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, বাংলাদেশে যদি করোনা সং’ক্রমণ বাড়তে থাকে তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ভিন্ন নীতি গ্রহণ করা লাগতে পারে। যদি তা হয়, সরকারের পদক্ষেপ কী হবে?

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এজন্য আগামী ২ সপ্তাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করতে চায়। এ সময় যদি শনাক্তের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃ’ত্যুহার ও জটিল সং’ক্রমণ বাড়তে থাকে তাহলে সরকার হয়তো সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা করতে পারে। আগামী ১১ জুন বাজেট অধিবেশন বসবে, এখন অর্থনৈতিক জুন ক্লোজিং চলছে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য সবকিছু বন্ধ রাখা অর্থনৈতিকভাবে দুরূহ ব্যাপার। এজন্য সরকার ১৫ জুন পর্যন্ত অর্থনৈতিক বিন্যাস, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয়, তা দেখতে চাচ্ছে। যদি দেখা যায়, আগামী ৭ দিন করোনা শনাক্তের হার কমে, তাহলে সরকার হয়তো ক্রমাগতভাবে শর্তগুলোকে শিথিল করবে। সবই নির্ভর করছে পর্যবেক্ষণ এবং তার ফলাফলের ওপর।

এদিকে সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্র বলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি সবকিছু চালু করা যায় এবং দীর্ঘদিন তা প্রতিপালন করা যায়, তাহলে আক্রা’ন্ত বাড়লেও পরিস্থিতি খুব একটা খারাপ হবেনা। বরং আস্তে আস্তে করোনার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার সুস্থধারার চর্চা হবে। যা জন-স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতির জন্যেও ইতিবাচক। সুস্থ ও নিরাপদ এই চর্চা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত মূল্যবান।

কাজেই সরকার এখন আবার সবকিছু বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বিবেচনা করছে না; বরং সরকার আগামী ২ সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়। আক্রা’ন্ত বেড়েও যদি যদি মৃ’ত্যুহার বা জটিল রোগীর সংখ্যা স্থিতিশীল থাকে, সেই সাথে বাসায় বসেই করোনা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে মানুষ- তাহলে সরকারের বর্তমান এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 102
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply