আইনজীবী হতে চায় দিনাজপুরের গৃহকর্মী মিনারা

0

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দারিদ্রের কারণে দমে যায়নি মিনারা খাতুন। অন্যের বাড়িতে কাজ করেও এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। মিনারা খাতুন আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন আইনজীবী হতে চায়।

মিনারার গৃহকর্তা ব্যারিস্টার নুরুজ্জামান জানান, ৪ বোন ও ১ ভাইকে নিয়ে মিনারার পরিবার। তার মা থাকলেও বাবা অন্যত্র বিয়ে করেছে। মিনারার পড়াশোনার আগ্রহ রয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

মিনারার উচ্চ শিক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যা যা করার সব সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন নুরুজ্জামান।

এক যুবলীগ কর্মীর সহায়তায় রিক্সাচালক দুই ভাইয়ের এসএসসি পাস

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার কারিকর পাড়ার গৃহ পরিচারিকা মুন্নী বেগমের দুই ছেলে নাইমুর রহমান ও ফাহিমুর রহমান। দুই মেয়েও আছে তার। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন মুন্নী বেগম। আরেক মেয়ে পড়ছে তৃতীয় শ্রেণিতে।

রবিবার (৩১ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৪ ও জিপিএ-৩ পেয়েছে দুই ভাই নাইমুর রহমান ও ফাহিমুর রহমান। নাইমুর পাস করেছে নগরীর আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আর তার ছোট ভাই ফাহিমুর রহমান পাস করেছে মহসিন মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয় থেকে।

জানা যায়, তাদের বাবা ছেড়ে যাওয়ার পর দুই ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়। অনেক দেনা ছিল তাদের পরিবারের। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকায় রিক্সা চালিয়ে লেখাপড়ার চালিয়ে গেছে দুই ভাই। যা আয় হয়েছে তা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালানোর সঙ্গে সঙ্গে চালিয়েছে ৫ জনের সংসার। তবে খুব বেশি ভালো ফল করতে না পারলেও যা হয়েছে তাই নিয়েই তারা সন্তুষ্ট।

নাইমুর রহমান জানায়, বাবা (নাম বলতে চায়নি) অনেক দেনা করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর আর কোনো খোঁজখবর রাখেননি বাবা। মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথা হলেও বাড়িতে আসেন না। বাবা চলে যাবার পর মা গৃহ পরিচারিকার কাজ করলেও তা দিয়ে ৫ জনের সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে মাকে সাহায্য করা এবং ৩ ভাই-বোনের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য দুই ভাইকেই রিক্সা চালানোর পথ বেছে নিতে হয়।

সে আরও জানায়, রিক্সা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে আর লেখাপড়া করা সম্ভব হতো না। স্কুলে যা পড়তাম তাই ছিল মূল পড়া। কোচিং করার কথা কল্পনাও করতে পারিনি। তবে একজন হৃদয়বান বড় ভাই এগিয়ে আসেন লেখাপড়ায় সহায়তা করার জন্য। তিনি বিনামূল্যে আমাদের পড়িয়েছেন।

নাইমুর জানায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় দুই ভাইকেই পড়তে হয় সমস্যায়। টাকার অভাবে পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার সমস্যায় পড়েছিলাম। কিন্তু এক বড় ভাই আমাদের করুণ অবস্থা শুনে ফরম পূরণের টাকা দিয়ে সাহায্য করেন।

ফাহিম জানায়, ক’ষ্ট হলেও আমরা পড়ালেখাটা চালিয়ে গেছি। মা আমাদের দুই ভাইকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। বর্তমানে দুই ভাই ইজিবাইক চালাই।

নাইমুর ও ফাহিমুরকে ফ্রি পড়াতেন খুলনার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের কর্মী জাফরি বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি গর্বিত। এমন একটি ছেলেকে আমি নির্বাচন করেছিলাম। একদিন এই ছেলের রিক্সায় চড়ে পাবলা থেকে খালিশপুর যাচ্ছিলাম। যেতে যেতে তার কথা শুনে চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। ভাড়াও দিয়েছিলাম দ্বিগুণ। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পড়ানোর দায়িত্ব নিই। সেই থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত আমি ছেলেটাকে ফ্রি পড়িয়েছি। আর ফরম পূরণের সময় তাদের সহায়তা করেছি।

খুলনার বিএল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা মো. মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, অনেকের সহায়তায় দুই ভাই এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা দুইজনের কলেজে ভর্তির দায়িত্ব নিয়েছেন। খুলনার যুবলীগের এক শীর্ষ নেতা তাদের দুই বছরের লেখাপড়ার খরচ দিতে চেয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 322
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!