জীবন্ত কিংবদন্তী তোফায়েল আহমেদের রাজনীতিতে ৫০ বছর

0

ফিচার ডেস্ক:

রাজনীতিকে কেউ বলেন নীতির রাজা, কেউ বলেন রাজার নীতি। তাবৎ দুনিয়ার সকল অভিযোগ যেন এই রাজনীতিবিদদেরই শুনতে হয়। আবার তাদের বিরু’দ্ধে যে অভিযোগ কম, এমনটাও নয়। কিন্তু সবদেশেই সকল বিত’র্কের উর্ধ্বে গিয়ে কিছু রাজনীতিবিদ থাকেন, যারা দলমত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য।

আজ এমনই এক রাজনীতিবিদ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। জানার চেষ্টা করব, বাংলাদেশের কিংবদন্তীতুল্য রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কে।

তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর, তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে। পিতা- মৌলভী আজহার আলী। মাতা- ফাতেমা বেগম। ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর তিনি ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএসসি পাশ করেন। ছাত্রজীবনে ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৪ সালে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহ-সভাপতি, ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল সংসদের সহ-সভাপতি, ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসু’র ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখনই ৬৯-এর মহান গণঅভ্যু’ত্থানের নেতৃত্ব দেন।

জানা যায়, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯’র ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজব’ন্দীকে মুক্ত করেন। ১৯৬৯-এ তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেইসাথে ১৯৭০ সালের জুনে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ভোলার দৌলত খাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযু’দ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে তাঁর রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৫-এ দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর তিনি রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফরের সফরসঙ্গী হন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নি’র্মম হ’ত্যাকাণ্ডের পর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ ৩ বছর তিনি জেলে ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডির পর জনগণের ভোটাধিকার অর্জন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তিনি এরশাদ আমলে ও পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে সংগঠিত আন্দোলন করতে গিয়েও দীর্ঘদিন জেল খাটেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও স্ত্রী-কন্যাসহ মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। কিন্তু হুম’কির কাছে নতি স্বীকার করেননি।

তোফায়েল আহমেদের রাজনীতি ছাড়াও সাহিত্য-সঙ্গীত ও সুকুমার শিল্পের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা যায়। এভাবেই রাজনীতিতে জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। আর এভাবেই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন এক কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 55.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!