সামনে বিএনপির জন্য কঠিন সময় আসছে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা সং’কটের সময় হঠাৎ করে চাঙ্গা হয়েছিল বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ২৫ মাস পর ৬ মাসের জন্য জেল থেকে বের হয়েছেন। বিএনপি করোনা মোকাবেলায় সরকারের সমালোচনায় বেশ সরব হয়েছে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতা তুলে ধরছে নিয়মিত। আর এসব কারণেই মনে করা হচ্ছিল বিএনপি চাঙ্গা হচ্ছে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরার পরপরই বিএনপির উপর চড়াও হবে সরকার। বিশেষ করে বিএনপি এই করোনাকালীন সময়ে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার একটি সুরাহা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সময় বিএনপি যা করছে, তা বিভ্রা’ন্তিকর, হতা’শাজনক এবং জনগণের মনোবল ন’ষ্টের ষড়’যন্ত্র। নানারকম অপ’প্রচার, বিভ্রা’ন্তির বার্তা দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। করোনা পরিস্থিতি যদি একটু অনুকূলে আসে, বিএনপির ওপর স্টিম রোলার চালানো হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে বিএনপিকে যে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে তার মধ্যে রয়েছে-

১. বেগম খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে দেওয়া ৬ মাসের জামিনের মধ্যে ২ মাসের বেশি সময় ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে। আগামী ৪ মাস যদি খালেদা জিয়া সুষ্ঠুভাবে জামিনের শর্ত প্রতিপালন না করেন, তাহলে সরকার জামিন বাতিল করতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মূলত করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে তাকে আবার জেলে পাঠানো হবে। গুঞ্জন রয়েছে, খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে শুরু করেছেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। একে বাড়তে দিতে চায় না সরকার। খালেদা জিয়ার এমন কর্মকাণ্ড চালু থাকলে তার জামিন বাতিল হতে পারে।

২. বিএনপির একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম অপ’প্রচার, মিথ্যাচার এবং গুজব ছড়াচ্ছে এবং জনমনে বিভ্রা’ন্তি সৃষ্টি করছে। যার তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে এজেন্সিগুলো দেখেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসবেরর সঙ্গে বিএনপির সাইবার উইং জড়িত। ইতিমধ্যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। যা আরও বড় পরিসরে হতে পারে, সে ব্যাপারে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩. শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিভ্রা’ন্তিকর তথ্যের সন্নিবেশ করে সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির পুরনো রেওয়াজ। গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি যতটা স্পেস পেয়েছিল, তা রহিত হতে পারে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে যে পুরনো নথি রয়েছে, তা সচল হতে পারে।

ইতিমধ্যে দুদক জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই তারা ‘কাজ’ শুরু করবেন। এতে বিএনপি কোণঠাসা হয়ে যেতে পারে। বিএনপি গত ২ মাসে যা করেছে, এটা তার রাজনৈতিক ভ্যাক্সিন হিসেবে কাজ দিবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন !
  • 114
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!