করোনার সাথেই মিলেমিশে বসবাসে অভ্যস্ত হতে চলেছি আমরা?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনার পিক সময়ে বাংলাদেশ ঝুঁ’কি নিয়েই অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সব খুলে দিয়েছে। গণপরিবহনও চালু হয়েছে। মানুষের মধ্যে আগের চেয়ে বেশি আত’ঙ্ক দেখা দিচ্ছে। নিজের সচেতনতা, যেটিকে গত কয়েকদিন মানুষ তোয়াক্কা করেনি, তার দিকে এখন নজর দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। মানুষ কিছুটা সচেতনভাবেই চলাফেরা করছে। মাস্ক পরছে, গ্লাভস ব্যবহার করছে। অনেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই ব্যবহার করে রাস্তায় বেরুচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকার কি আবার লকডাউন দেবে? নাকি এভাবেই চলবে জীবন?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি নির্ভর করবে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের পরিস্থিতির উপর। আগামী ৭ থেকে ১০ দিন যদি পরিস্থিতির তেমন কোনো গুরুতর অব’নতি না হয়, তাহলে আস্তে আস্তে অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য এভাবেই অভ্যস্ততা তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির দেশের জন্য দীর্ঘদিন লকডাউন বা সবকিছু বন্ধ রাখা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এর ফলে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে বলে মত অর্থনীতিবিদদের। তাই সরকার একটু ঝুঁ’কি নিয়ে হলেও সব খুলে দিয়েছে। তবে জানা গেছ, সরকার ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিনজোন হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশে আগামী কয়েকদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন অর্থবছরের শেষ সময় চলছে এবং জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন বসবে আগামী ১১ জুন। অর্থবছরের শেষে সরকারের একটা বড় ধরনের আর্থিক মীমাংসার প্রশ্ন জড়িত থাকে। এ কারণেই সরকার সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন, করোনা পরিস্থিতিতে এই খুলে দেয়ার পরিণাম কী হবে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সবকিছু খুলে দেওয়ার পরিণাম ভালো হবে নাকি খারাপ হবে সেটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে। অন্তত ১ সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের আগে বোঝা যাবে না, বাংলাদেশে এই খুলে দেওয়ার ফলাফল কী হলো। বরং অনেকের ধারণা, খুলে দেওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বেড়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে, নিজের সুরক্ষা নিজের হাতে। জীবন জীবিকার জন্যই সুরক্ষিত থাকতে হবে। এতে সবচেয়ে লাভজনক হচ্ছে যা, তা হলো অর্থনীতির গতি সচল হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন করোনার এই ধারাই থাকে, তাহলে সরকার আবার নতুন করে লকডাউন বা নতুন করে সবকিছু বন্ধের পথে যাবে না। পরিস্থিতির যদি গুরুতর অব’নতি হয়, মৃ’ত্যুহার অনেক বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিছুদিনের জন্য লকডাউন দিতে পারে।

অবশ্য সরকার সবকিছু খুলে দিলেও অনেকগুলো সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালু হয়নি। সমাবেশ ও জমায়েতের উপর নিষে’ধাজ্ঞা রয়েছে। তাছাড়া সরকারি অফিস আদালতগুলোতে কাজকর্ম শুরু হলেও সেটি করা হয়েছে সীমিত আকারে। এই প্রেক্ষাপটেই স্পষ্ট, সরকার আসলে করোনার সঙ্গে বসবাস করতেই আগ্রহী। লকডাউনের মাধ্যমে জনজীবন অ’চল করতে চায় না সরকার।

লকডাউনের কিছু নে’তিবাচক দিকও রয়েছে। ১৫ দিন পর যদি আবার সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন জনমনে ধারণা হবে, সরকার কেবলই স্ববিরো’ধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কোনো সিদ্ধান্তে স্থির হতে পারছে না। তাই পরিস্থিতির খুব বড় অব’নতি না হলে এভাবেই আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক করা হবে। আর যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে সীমিত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৫ জুনের পর।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সরকার খুব আশাবাদী, জুনের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে। তাই এখন সবকিছু আবার বন্ধ করে দেওয়া হলে জনমনে নে’তিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হবে। যার প্রভাব হতে পারে গুরুতর। তাই আবার সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্তে ফেরত যাবে, এমনটা না-ও ঘটতে পারে, যদি না পরিস্থিতির গুরুতর অব’নতি ঘটে।

শেয়ার করুন !
  • 334
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!