পঙ্গপাল ঠেকাতে অভিনব যন্ত্র বানালেন চাষী (ভিডিও)

0

বিশ্ব বিচিত্রা ডেস্ক:

পঙ্গপাল হানা দিয়েছে ভারতে। বিশেষ করে উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে এরই মধ্যে মাইলের পর মাইল জমির শস্য ধ্বং’স করছে তারা। চাষীরা প্রত্যেকে ফসল বাঁচাতে এক যু’দ্ধে নেমেছেন যেন। কেউ দল বেঁধে জমিজুড়ে বাসন পেটাচ্ছেন, কেউ বা মোবাইলে ডিজে বাজাচ্ছেন। জোরালো শব্দ পঙ্গপালের শ’ত্রু, সে কারণেই এই চেষ্টা। এসবের মাঝেই পঙ্গপাল ঠেকানোর এক অভিনব যন্ত্র উদ্ভাবন করে ফেলেছেন উত্তর ভারতের এক চাষী।

তার এই উদ্ভাবনের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি জেলার পুলিশ সুপার রাহুল শ্রীবাস্তব। সেই ভিডিও টুইটারে পোস্ট হতেই রীতিমতো ভাইরাল।

২ কোটিরও বেশি মানুষ দেখেছেন ভিডিওটি। প্রশংসার বন্যা বয়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। ভিডিওটির ক্যাপশন হিসেবে শ্রীবাস্তব লেখেন, উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছে পঙ্গপাল!

এই বিষয়টিকে ‘জুগাড়’ বলে আখ্যা দেন তিনি। হিন্দিতে এই শব্দের অর্থ হলো, কোনো সমস্যা সমাধানের সহজ ও সুলভ বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা। ঠিক যেমন এই উপায়টি।

দেখা যাচ্ছে, ক্ষেতের মাঝখানে একটি লম্বা পোলের মাথায় প্রপেলারযুক্ত একটি বিশাল অ্যারোপ্লেন সদৃশ বস্তু বাঁধা। এই অ্যারোপ্লেন তৈরি করা হয়েছে বাতিল সিলিং ফ্যানের ব্লেড, সফট ড্রিংকের প্লাস্টিকের বোতল, টিনের ক্যান, কার্ডবোর্ড- এসব গিয়ে। এটি পোলের মাথায় বনবন করে ঘুরছে এবং বিকট আওয়াজ হচ্ছে। যার ফলে পঙ্গপালের দল ধারে কাছে ঘেঁষছে না।

এর আগেও শ্রীবাস্তব একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘ডিজে গাড়ি’। সেটি উত্তরপ্রদেশের জমিগুলোতে জোরালো গান-বাজনা করতে করতে ঘুরছিল। পঙ্গপাল তাড়ানোর জন্য এ-ও ছিল এক ‘জুগাড়’।

শ্রীবাস্তব লিখেছিলেন, ‘ডিজে মানেই শুধু নাচ আর গান নয়। পঙ্গপাল তাড়াতেও ডিজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওরা শব্দে ভ’য় পায়।’

বাংলাদেশের দিকে আসছে না পঙ্গপাল

প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্থান যখন পঙ্গপালের হানায় নাস্তানাবুদ, তখন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল বাংলাদেশও। তবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আশ্বস্ত করছে, এ নিয়ে আপাতত বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। মৌসুমী বায়ু অনুকূলে থাকবে না, তাই এ বছর বাংলাদেশে পঙ্গপাল আসার সম্ভাবনা নাই।

বিশ্বজুড়ে পঙ্গপালের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এফএও। একইসঙ্গে দেশগুলোকে এ বিষয়ে সতর্কও করছে। সংস্থাটি গত ২৭ মে প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে জানায়, রাজস্থান থেকে পঙ্গপালের ঝাঁক মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে যেতে থাকবে। আরো কয়েকটি ঝাঁক রাজস্থানে ঢুকতে পারে জুলাই পর্যন্ত। এরা বাতাস অনুকূলে পেয়ে বিহার ও উড়িষ্যাতেও পৌঁছে যেতে পারে। এরপর মৌসুমি বায়ূ দিক বদলাতে শুরু করলে এরাও রাজস্থানের দিকে ফিরে আসবে। ওই সময় তাদের প্রজ’ননের সময় হবে এবং চলাচল থেমে যাবে। ফলে দক্ষিণ ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা পঙ্গপালের খুব একটা নাই।

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এক প্রতিবেদনে জানান, গত মাসের শুরুতে তিনি এফএও’র পঙ্গপাল পূর্বাভাস বিষয়ক সিনিয়র কর্মকর্তা কিথ ক্রেসম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাংলাদেশে পঙ্গপাল আসার সম্ভাবনা কতটুকু এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি কারণেই বাংলাদেশে পঙ্গপাল হানা দেয়ার সম্ভাবনা নাই। প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে আছে পঙ্গপাল। দ্বিতীয়ত, তারা বাতাসের বিপরীতে উড়তে পারে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ অনেক আর্দ্র ও সবুজ, মরু পঙ্গপালের বসবাসের জন্য এ আবহাওয়া অনুকূলে নয়।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পঙ্গপাল শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দ করে। এদেশের আবহাওয়া আর্দ্র ও শুষ্ক। তাই এ দেশে পঙ্গপালের আক্র’মণের সম্ভাবনা কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরে এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত ৪৯ বছরে দেশে পঙ্গপালের কোন আক্র’মণ হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে এ বছর তেমন ঝুঁ’কি নাই, আগামী বছরের জন্য আমাদের সতর্ক হতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply