ছন্দ হারিয়েছে আওয়ামী লীগ?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ যেন নি’ষ্প্রভ হয়ে গেছে। দলের হাতেগোনা কিছু নেতার বিবৃতি এবং অনলাইন সংবাদ সম্মেলন ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। যদিও আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তারা সক্রিয় রয়েছেন, ধান কাঁটার সঙ্গে অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো যুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগের সব কর্মকাণ্ড চলমান থাকলেও যেন ছন্দ নেই, বেসুরো হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ, কিন্তু কেন?

আওয়ামী লীগের ভেতরে কি কোন অ’স্বস্তি কাজ করছে? নেতৃত্বের মধ্যে কি সমন্বয়ের অভাব? এই প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক মহলের। এই সং’কটকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের সরব থাকার কথা। টানা ৩ মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের জনপ্রতিনিধিরাই সর্বত্র। কাজেই জনগণের প্রতি যেমন তাদের দায়ব’দ্ধতা রয়েছে, পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং জনগণের কাছে যাওয়ার এটাই বড় সুযোগ। সেই সুযোগকে আওয়ামী লীগ হেলায় ন’ষ্ট করছে কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে।

আওয়ামী লীগের এই ছন্দপ’তনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণগুলো হলো এরকম-

১. সাধারণ সম্পাদক ঘরব’ন্দি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ঘিরেই আওয়ামী লীগ পরিচালিত হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন সবকিছুর উর্ধ্বে, তিনি দলের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, দলের ঐক্যের প্রতীক। তিনি দলের চালিকাশক্তি, তাকে ঘিরেই দল পরিচালিত হয় এবং তৃণমূলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয় সাধারণ সম্পাদককে। কিন্তু করোনার জন্য যৌক্তিক কারণেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘরব’ন্দি হয়ে রয়েছেন, ঘরে বসেই তিনি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করছেন। কিন্তু মাঠে ঘোরাফেরা করার নেতা যখন ঘরে থেকে বিবৃতি দিবেন, সেই বিবৃতি কতটা চিত্তাকর্ষক হবে বা কতটুকু আবেদন বহন করবে তা বলাই বাহুল্য। আর এই কারণেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের অবাধ বিচরণের অভাববোধ করছে আওয়ামী লীগ।

২. উদ্যমহীন নেতৃবৃন্দ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অধিকাংশই অনুপস্থিত। বেগম মতিয়া চৌধুরীকে মাঝে মাঝে দলের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়, বাকি সদস্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান কিছুটা সক্রিয়। কিন্তু অন্যরা কোথায় আছেন বা কী করছেন তা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন। শাজাহান খান যতটা না আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তার থেকে বেশি তিনি পরিবহন শ্রমিক নেতা। পরিবহন বিষয় ছাড়া তাকে খুব একটা দেখা যায় না। আর ড. আব্দুর রাজ্জাক সক্রিয় থাকলেও মন্ত্রণালয়ের কাজকে ঘিরেই তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সরব রয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ। সারাক্ষণই তিনি কথা বলছেন। এখন পর্যন্ত দলের কণ্ঠস্বর হয়েই আছেন তিনি। কিন্তু অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা রুটিন কাজেই ব্যস্ত। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হানিফ মোটেও সক্রিয় নন। আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম দলীয় কর্মকাণ্ডে আছেন কিন্তু তিনি ঘরোয়া রাজনীতিতে যতটা পারঙ্গম, মাঠের রাজনীতিতে তিনি ততটাই নিঃস্পৃহ। অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ডা. দীপু মনি এখন মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। ফলে দলের প্রেসিডিয়াম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যেমন নেই সঙ্গবদ্ধ প্রয়াস, তেমনি এই সং’কটে তারা জনগণকে আশ্বস্ত করবেন বা জনগণের বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা বলবেন এমনটা তাদেরকে খুব একটা দেখা যাচ্ছেনা। দলের হেভিওয়েট নেতারা, যেমন তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম- তাঁদেরকেও খুব একটা দেখা যাচ্ছেনা। এদের মধ্যে মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ। করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য দুই নেতাও দুরত্ব বজায় রেখেই কাজ করছেন।

৩. অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতে প্রাণ নেই

আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো ছিল অত্যন্ত সরব এবং কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর। কিন্তু ক্যাসিনো কেলে’ঙ্কারিতে অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর উপরে যে ঝড় এসেছে, তাতে সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। কার্যত কর্মকাণ্ডহীন অঙ্গসহযোগী সংগঠগুলো। করোনা সং’কটকালে এই সংগঠগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ছে না। হাতেগোণা দু-একটি অঙ্গসহযোগী সংগঠন টুকটাক দু-একটি কাজ ছাড়া বাকি সবাই যেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে।

৪. অর্ধেক এমপি এলাকায় নেই

আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সংগঠন, তৃণমূল হলো আওয়ামী লীগের রক্তপ্রবাহের মতো। কিন্তু তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরু’দ্ধে উঠছে দুর্নীতি, ত্রাণ লোপাটের অভিযোগ। আর দলের এমপিদের কেউ কেউ ভালো কাজ করলেও অর্ধেক এমপি এলাকাতেই যাচ্ছেন না। আর সবমিলিয়ে সং’কটকালে আওয়ামী লীগকে যেভাবে দেখা যায়, এবারের সং’কটে আওয়ামী লীগ সেভাবে নেই।

৫. ছন্দহীন আওয়ামী লীগ

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা রাজনীতির চেয়ে এখন সং’কট মোকাবেলা এবং রাষ্ট্রপরিচালনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনা পেলে আওয়ামী লীগের ছন্দে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!