অবশেষে সেই স্বাস্থ্য সচিবের বদল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাগ্য বদলাবে?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

অবশেষে সরে যেতে হলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে। দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্র্যণালয়ে আসার পর তিনি ধাপে ধাপে বিভিন্ন ডেস্কে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লেখাপড়া জানা হিসেবে তার খ্যাতি ছিল, কিন্তু দূর্যোগে ভেঙে পড়া এবং সচিব হিসেবে নেতৃত্ব দানে অ’দক্ষতার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।

প্রথম দফায় আসাদুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছিলেন ডেঙ্গুর সময়, সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলে তিনি ডেঙ্গু মোকাবেলার নেপথ্যে থেকে কাজ করেছিলেন। কিন্তু কখনো নেতৃত্ব নিতে চাননি। অথচ একজন সচিবের দায়িত্ব নেতৃত্বের। এই সময় মন্ত্রী গোপনে মালয়েশিয়া চলে গেলে যখন সমালোচনার ঝড় ওঠে, তখনো স্বাস্থ্য সচিব নীরব ছিলেন। এরপর থেকে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে মন্ত্রীর দূরত্ব তৈরি হয় এবং মেয়াদকালে তাদের প্রকাশ্য দূরত্বের কথা সবারই জানা।

করোনা স’ঙ্কটের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যসচিবকে নিঃস্পৃহ দেখা যাচ্ছিল। তার হ’তোদ্যম আর সদা তৎপরতার অভাব ছিল লক্ষ্যনীয়, আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছিল গতিহীন। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচিবের বদলে অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন হাবিবুর রহমান খান পাদপ্রদীপে আসেন, কিন্তু তাতেও স’ঙ্কটের সমাধান হয়নি।

স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দূরত্বের কথা প্রকাশ্যেই শোনা যায়। একদিকে যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে তার মতবিরো’ধ ছিল প্রকাশ্য, অন্যদিকে মন্ত্রীরও তিনি কাছের মানুষ ছিলেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দীপ্ত করা এবং তাদেরকে করোনা স’ঙ্কটের সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা চোখে পড়েছে সকলের।

এসব কারণেই হয়তো শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হলো স্বাস্থ্য সচিবকে। তবে প্রশ্ন, এখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-কেন্দ্রিক এবং অধিদপ্তরের উপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ খুবই সামান্য। তাছাড়া মন্ত্রী মন্ত্রণালয় চালান তার নিজস্ব কিছু কাছের মানুষদের দিয়ে। এরমধ্যে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সচিব বদল করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কি গতি ফিরিয়ে আনা যাবে? বিশেষ করে, এটা যখন একটি স্পর্শ’কাতর এবং বিশেষায়িত মন্ত্রণালয় এবং শুধুমাত্র একজন সচিব দিয়েই কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নতুনরূপে দেখা যাবে?

আশার কথা হলো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে নতুন সচিব দেওয়া হয়েছে- আব্দুল মান্নান একজন পরীক্ষিত এবং নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা। তিনি যখন যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেই দায়িত্বেই প্রশংসার দাবি রেখেছেন। কিন্তু একটি মন্ত্রণালয়ের সাফল্য-ব্যর্থতা শুধুমাত্র একজন সচিবের উপর নির্ভর করে না বা একজন মন্ত্রীর উপর নির্ভর করে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেন এখন একটি পলিজমে স্রোতহারানো নদীর মত, সেখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নেতৃত্বের অভাব। সেখানে নতুন স্বাস্থ্য সচিব কি মন্ত্রীকে ছায়া করে বর্তমান দুর্যোগ মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন? সামনের দিনগুলোতে তা বোঝা যাবে।

শেয়ার করুন !
  • 403
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply