গুঞ্জন বাতাসে- খালেদার বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি চলছে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত ২৫ মার্চ বিশেষ বিবেচনায় ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া এবং স্বাস্থ্যগত কারণেই তাকে এই জামিন দেওয়া হয়। যদিও খালেদা জিয়া ২৫ মাস যখন জেলে ছিলেন, সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার, এজন্য তাকে দ্রুত বিদেশ নেওয়া প্রয়োজন। সে কারনে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপি আদালত পর্যন্ত যায়। যদিও সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর খালেদা জিয়ার পরিবারের ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা মানবিক দিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এই সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জন্য জামিন দেয়।

খালেদা জিয়া মুক্তির দিন থেকেই বাংলাদেশে করোনার কারণে সাধারণ ছুটি শুরু হয়ে যায়, এ সময় বিমান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। তখন খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকবেন। এ সময় দলের কোনো নেতাকর্মী বা অন্য কেউ তার সাক্ষাৎ পাবে না। বর্তমানে খালেদা জিয়ার মুক্ত জীবনের ২ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়া অসুস্থতার বড় খবর যেমন পাওয়া যায়নি, তেমনি রাজনৈতিক তৎপরতার প্রকাশ্য কোন আলামত পাওয়া যায়নি। বরং তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিমুল বিশ্বাসসহ দু-একজন নেতাকে দিকনির্দেশনা দেন। ঈদের সময় তাকে একটু সরব দেখা গেছে। এই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সাক্ষাতগুলো রাজনৈতিক নয়। আর বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হওয়ার পর কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়াননি।

দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কোন সুযোগ নেই। সেটা যদি করা হয় তাহলে তিনি জামিনের শর্ত ল’ঙ্ঘন করবেন। খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফ থেকেও বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া এখনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চান না; বরং তার চিকিৎসাই হলো প্রধান বিষয়। এজন্য বাইরে তিনি কোন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে চাননা। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাতাসে জোর গুঞ্জন- খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যে এখন বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তি চার্টার্ড বিমানে করে বিদেশে গেছেন- এই খবর প্রকাশের পরই বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। খালেদা জিয়ার পরিবার এখন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে, যেন এখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কোন প্রস্তাব আসেনি।

কিন্তু বেগম জিয়ার পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই একটি চার্টার্ড বিমানে খুব শীঘ্রই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাবেন। এতে খালেদা জিয়ার দুটি লাভ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথম লাভ- এর ফলে খালেদা জিয়ার আর নতুন করে জামিন নিতে হবে না এবং চিকিৎসার নামে তারেক জিয়ার মত দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বা পরিবারের কেউ সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও সূত্রটি বলেছে, খুব শীঘ্রই বিষয়টি পরিষ্কার হবে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশেযাত্রা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 374
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply