শুধু সচিবের বদলি নয়, আরও পরিবর্তন আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

শুধু স্বাস্থ্য সচিব পরিবর্তনই শেষ নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আরো পরিবর্তন আসছে- এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, এসব পরিবর্তন হবে কৌশলগত পরিবর্তন। এর সঙ্গে করোনা সং’ক্রমণের কোন সম্পর্ক নেই।

জানা গেছে, নব নিযুক্ত স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান ৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এখনো ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা রয়েছে। যেহেতু তারা চাকরিতে সিনিয়র তাই স্বাভাবিক শিষ্টাচার হিসেবে তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হবে। এটাই জনপ্রশাসনের রীতি।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (প্রশাসন) সচিব হাবিবুর রহমান খান ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক অটিজম সেল) পারভিন আক্তার ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন যিনি বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ দেখেন, তিনিও ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা।

যেহেতু আব্দুল মান্নান ৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়োজিত, কাজেই স্বাভাবিক নিয়মে এই ৩ জন কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হতে পারেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (প্রশাসন) সচিব মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মন্ত্রীর আগ্রহেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের প্রধান করা হয়েছিল হাবিবুর রহমান খানকে। গত কিছুদিন ধরেই সচিবকে আড়াল করে হাবিবুর রহমান খানই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলছিলেন। এখন অতিরিক্ত (প্রশাসন) সচিব হিসেবে কে আসে সেটাই দেখার বিষয়। এই পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থ’বিরতা কাটে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

অবশেষে সেই স্বাস্থ্য সচিবের বদল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাগ্য বদলাবে?

অবশেষে সরে যেতে হলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে। দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্র্যণালয়ে আসার পর তিনি ধাপে ধাপে বিভিন্ন ডেস্কে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। লেখাপড়া জানা হিসেবে তার খ্যাতি ছিল, কিন্তু দূর্যোগে ভেঙে পড়া এবং সচিব হিসেবে নেতৃত্ব দানে অ’দক্ষতার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।

প্রথম দফায় আসাদুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছিলেন ডেঙ্গুর সময়, সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলে তিনি ডেঙ্গু মোকাবেলার নেপথ্যে থেকে কাজ করেছিলেন। কিন্তু কখনো নেতৃত্ব নিতে চাননি। অথচ একজন সচিবের দায়িত্ব নেতৃত্বের। এই সময় মন্ত্রী গোপনে মালয়েশিয়া চলে গেলে যখন সমালোচনার ঝড় ওঠে, তখনো স্বাস্থ্য সচিব নীরব ছিলেন। এরপর থেকে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে মন্ত্রীর দূরত্ব তৈরি হয় এবং মেয়াদকালে তাদের প্রকাশ্য দূরত্বের কথা সবারই জানা।

শেয়ার করুন !
  • 599
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!