করোনা যদি হয় এখন পিক সিজনে, এরপরই কমতে শুরু করবে?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে ২ হাজারেরও বেশি যে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে- সেটাই চূড়ান্ত পরিসীমা বলে অনেকে মনে করছেন। এই ধারা আরো কিছুদিন অ’ব্যাহত থাকার পর বাংলাদেশে করোনার সং’ক্রমণ কমতে শুরু করবে।

বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণের আরো উলম্ফনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কোন কোন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গত ২৮ মে থেকে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কিছুটা একই ধারায় রয়েছে, এই একই ধারায় থাকাটাই ইতিবাচক। কারণ বাংলাদেশে যেভাবে ১ হাজার থেকে ২ হাজারে লাফিয়ে বেড়েছিল, ঠিক সেভাবে ২ হাজার থেকে লাফিয়ে ৩/৪ হাজার শনাক্তের আশ’ঙ্কা ছিল অনেকের। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এখন প্রতিদিন ১০ হাজারের বেশি পরীক্ষা হচ্ছে। তাই কম পরীক্ষা বলারও কোন সুযোগ নেই।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ১২ হাজার ৬৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো, এই ২৪ ঘণ্টায় যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে ১৯ শতাংশ হারে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে ২১ শতাংশের বেশি হারে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কত নতুন শনাক্ত হলো, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শনাক্তের শতকরা হার। শনাক্তের শতকরা হার কম আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া যদি একটানা ১ সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে তাহলে বুঝতে হবে, সং’ক্রমণের হার স্থিতিশীল আছে। ফলে এটা নতুন করে বাড়ার সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশে গত ১ সপ্তাহ ধরে শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার থেকে আড়াই হাজারের ভেতর ঘোরাফেরা করছে। এটাকেই ইতিবাচক মনে করা হচ্ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে, এটাই পিক সিজন।

বাংলাদেশ আজ করোনা সং’ক্রমণের ৮৫ তম দিন অতিবাহিত করেছে। কাজেই এ সময়ে আড়াই হাজার নতুন শনাক্ত খুব একটা উদ্বেগজনক নয়। বিশেষ করে যে দেশগুলোতে করোনা তা’ণ্ডব চালিয়েছে সেই দেশগুলোর তুলনায়। কোন কোন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বাংলাদেশে সামাজিক সং’ক্রমণ যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন এই হার আরো কিছুদিন হয়তো এমনই থাকবে। ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত এরকম পরিস্থিতি থাকতে পারে, এরপরে সং’ক্রমণের হার কমতে থাকবে। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে দেখা গেছে, ৯০ তম দিনের পর করোনা সং’ক্রমণের উর্ধ্বগতি থেমে যায় এবং একটা সময়ে সেই হার কমতে শুরু করে। বাংলাদেশ আগামী ৫ দিন পর ৯০ তম দিন অতিবাহিত করবে। এরপরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হবে তা দেখার বিষয়। আর এই পরিসংখ্যানের ওপর সরকারের অনেকগুলো পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, বাংলাদেশে মৃ’ত্যুর হার এখনো অনেক কম। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে মা’রা গেছেন ৩৫ জন, এর ফলে করোনায় মোট মৃ’তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮১ জন। যে কোন দেশের বিবেচনায় এই হার অত্যন্ত আশা জাগানিয়া খবর। মৃ’ত্যুর হার কম থাকার কারণে করোনার ভ’য়াবহতা আমরা বুঝতে পারিনি। কারণ অন্যান্য দেশগুলোতে করোনায় বিপুলভাবে মৃ’ত্যু হার বেড়েছিল। মৃ’ত্যুহার বেশি থাকার কারণে লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

এখন এই অবস্থা যদি বাংলাদেশে আগামী ৭ থেকে ১০ দিন থাকে এবং মৃ’ত্যু হার একই রকম থাকে তাহলে বাংলাদেশ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেই যাবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্যান্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, কোনো দেশেই ৯০ থেকে ১০০ দিনের পর করোনার তা’ণ্ডব আগের মতো থাকেনা। বরং সেটা আগের থেকে কম শক্তিশালী হতে থাকে। এখন বিশেষজ্ঞদের প্রক্ষেপণ করতে হবে, আমাদের সর্বোচ্চ সং’ক্রমণের চূড়ায় আমরা কবে পৌছাবো এবং সেখান থেকে নামার শুরুর মুহুর্তেই আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!