মোংলায় এতিমখানা-মাদ্রাসার নামে জমি দখল করছেন মাওলানা আকরাম

0

খুলনা প্রতিনিধি:

একের পর এক জমি নিয়ে বিবা’দ সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অভিযোগ উঠেছে জরিনা কুলসুম এতিমখানা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আকরামুজ্জামানের বিরু’দ্ধে। হয়রা’নি হওয়া ব্যক্তিরা জানান, আকরামুজ্জানের কারণে ক্ষু’ন্ন হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনি একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম। তার বিরু’দ্ধে একাধিক মামলা হলেও দায়িত্বে বহাল আছেন তিনি। তাই প্রতিকার পেতে সর্বশেষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন এক ভিক্টিম।

মোংলার সিগনাল টাওয়ার এলাকায় বসবাসকারী ভিক্টিম মো. হিরো মিয়া জানান, ১৯৭০ সালে ৯৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে তিনি ভোগ দখ’লে আছেন এবং ওই জমির ওপরে ৪টি ঘর, ২টি পুকুরসহ ফলজ ও বনজ গাছপালা রয়েছে। হঠাৎ করে জরিনা কুলসুম এতিমখানা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আকরামুজ্জামান তার সম্পত্তির মধ্যে ভিপি সম্পত্তির অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা করে। কোন কিছু না বলে অ’বৈধভাবে জমিতে লাল নিশানা ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে তাকে উচ্ছে’দ করার চেষ্টা চালায়।

এতিমখানা ও মাদ্রাসাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মো. আকরামুজ্জামান ইতোমধ্যে স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষিকা নাছিমা বেগম, আয়া পারুল বেগম, দিনমজুর জব্বার ফরাজি, বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী শাহাজাহান মাঝি, ওয়াচম্যান শাজাহান, গৃহিণী রহিমা বেগম, কম্পিউটার ব্যবসায়ী রব্বানীসহ বহু লোকের জমি নিয়ে হয়রা’নি করছেন। ভিক্টিমরা তার হাত থেকে রক্ষা পেতে একাধিক মামলাও দায়ের করেছেন।

চালনা বন্দর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমিসহ ৫ জন শিক্ষক ২০১৩ সালে বৈধভাবে জমি কিনে মাটি ভরাট করি। কিন্তু ঘর তুলতে করতে গেলে মাদ্রাসা সুপার মো. আকরামুজ্জামান তার বাহিনী নিয়ে বাধা দেন। তিনি আমাদের একের পর এক মিথ্যা হয়রা’নি করে যাচ্ছেন।

দিনমজুর জব্বার ফরাজি বলেন, আমি অনেক ক’ষ্ট করে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি কিনে বালু দিয়ে ভরাট করেছি। কিন্তু বসত ঘর করতে গেলে সুপার মো. আকরামুজ্জামান বাধা দেন। আমি প্রায় ৪ বছর জমি দখ’ল নিতে পারিনি। পরে আকরামুজ্জামানকে বিবা’দী করে আদালতে মামলা দায়ের করি (মামলা নং-৫২/১৯)।

ভিক্টিম গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, মো. আকরামুজ্জামান বহুমুখি মাদ্রাসায় শিক্ষাগতা করার সময় বলাৎ’কারের দায়ে চাকরিচ্যুত হন। পরে জব্বারিয়া শিশু সদন ও এতিমখানায় কর্মরত অবস্থায় একই অভিযোগে সিগনাল টাওয়ার জামে মজিদের ইমামতি থেকে তাকে বরখা’স্ত করে তৎকালীন কমিটি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জরিনা কুলসুম এতিমখানার সুপার মো. আকরামুজ্জামা বলেন, আমার নিজের কোনো জমি ওখানে নেই। আমি মাদ্রাসার পক্ষে ল’ড়ছি এবং চেষ্টা করছি মাদ্রাসার জমি দখ’লদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করার।

সহকারী কমিশনার (ভুমি) নয়ন কুমার রাজবংশি জানান, সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিমখানার নামে কিছু অংশ ভিপি জমি লিজ আছে। উপজেলার সার্ভেয়ার ভিপি জমি এবং মো. হিরো মিয়ার কেনা ৯৭ শতাংশ জমি লম্বালম্বি মেপে দিয়েছে। উভয়পক্ষ যাতে মিলেমিশে ভোগদখ’ল করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাহাত মান্নান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজন হলে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমস্যার সমাধান করবো, এছাড়া বিরো’ধপূর্ণ জমির বিষয়ে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আ. খালেক উভয়পক্ষের কাজগপত্র দেখে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য আমাকে বলেছেন। কোন পক্ষ যেন হয়রা’নি বা ক্ষ’তিগ্রস্ত না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 274
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply