যে সিন্ডিকেট ও সংস্থাগুলো এ মুহূর্তে সরকারের মাথাব্যথার কারন

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা মোকাবেলায় শুরু থেকেই সরকার ল’ড়াই করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি যেমন দেখছেন, তেমনি করোনা সং’ক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক সং’কটে যেন দেশ না পড়ে, বিশেষ করে গরীব এবং দরিদ্র মানুষ যেন খারাপ অবস্থার ভেতর পতিত না হয়, সে বিষয়টিও সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন।

অন্য দেশগুলোর তুলনায় করোনা সং’কটের প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক ল’ড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে। ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ পত্রিকার মতে করোনা পরবর্তী বিশ্বে যে দেশগুলো অর্থনৈতিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহৎ ও দুরদর্শী উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে। আর এটাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখে নেয়া যাক প্রধান কারণগুলো কী কী-

১. গার্মেন্টস মালিকদের দায়িত্বহীন আচরণ

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুন থেকে তারা শ্রমিক ছাঁ’টাই শুরু করবে। বিজিএমই-এর সভাপতি রুবানা হক এও বলেছেন, এখন ৫৫ শতাংশ কাজ হচ্ছে, কাজেই তারা ১০০% শ্রমিক রাখতে পারবেন না। গার্মেন্টস এই ধরণের কতাবার্তায় পুরো দেশ হতবাক, বিস্মিত। বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকদের বিত্তের অভাব নেই, এরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। এদের অনেকেরই কানাডা, আমেরিকা, সিঙ্গাপুরে বাড়ি আছে। বিদেশে অর্থপা’চারের এমন অনেক অভিযোগ আছে। এই সং’কট মোকাবেলার করা শুধু যে সরকারের একার দায়িত্ব নয়, বিত্তবান, শিল্প মালিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে, গার্মেন্টস মালিকরা দায়িত্বহীন আচরণ করছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সরকারকে চাপে ফেলছেন। যার সর্বশেষ নজির, দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি। এতবছর মুনাফার পর, বিত্তের পাহাড় গড়ে এখন যদি তারা ২-৩ মাস এই বাড়তি শ্রমিকদের দায় না নিতে পারেন তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এ সময় শ্রমিক ছাঁ’টাই না করে অন্তত শ্রমিকদেরকে বেতন দিয়ে চালিয়ে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। ছাঁ’টাই শুরু হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সং’কট পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি দারুণভাবে ব্যা’হত হবে এবং অ’স্থিরতা সৃষ্টি হবে। গার্মেন্টস মালিকদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং কথাবার্তা সরকারের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ।

২. পরিবহন সিন্ডিকেট

করোনার পরে মানুষের এমনিতেই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, এর মধ্যে বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে ৬০ ভাগ। কাগজে-কলমে ৬০ ভাগ বৃদ্ধি করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসভাড়া প্রায় দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একজন হেভিওয়েট নেতার তত্ত্বাবধানে পরিবহন সিন্ডিকেট সরকারকে জি’ম্মি করে বাসভাড়া বৃদ্ধি করেছে। অথচ সরকার নিয়ন্ত্রিত রেলের ভাড়া বাড়েনি, বিমানের ভাড়াও বাড়েনি। বাসভাড়া বৃদ্ধি কতটুকু যৌক্তিক সেই ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। এই ব্যাপারে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে জনমনে, যা সরকারের আরেক মাথাব্যথার কারণ।

৩. তৃণমূলের দুর্নীতি

সরকার শুরু থেকেই করোনা মোকাবেলার জন্য প্রান্তিক দরিদ্র মানুষদের সহায়তা দান করছেন। এই মহৎ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তৃণমূলের কিছু জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির কারণে। ইতিমধ্যে ৮৭ জন ত্রাণ চোরের সাজা দেওয়া হলেও এই দুর্নীতি সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে চ্যালেঞ্জ করছে। এটা সরকারের জন্য একটা বড় ধরণের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪. গতিহীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

করোনা মোকাবেলায় নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ে কোন গতি নেই, সমন্বয় নেই। বরং প্রতিদিন দূর্নীতির নিত্যনতুন খবর সরকারের জন্য বড় রকমের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শীর্ষ পদে যারা আছেন, তারা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালন এবং দায়িত্ব এড়ানোতেই ব্যস্ত।

৫. ব্যাংকিং সেক্টরে সিন্ডিকেট

প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকবেলার জন্য প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরের সিন্ডিকেটের কারণে এই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে নানারকম জটিলতা হচ্ছে এবং দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। দ্রুত যদি ব্যবসায়ীরা এবং উদ্যোক্তরা এই প্রণোদনা সহায়তা না পান তাহলে অর্থনীতির সং’কট নতুন ঝুঁ’কিতে পড়তে যাচ্ছে। আর এটাই সরকারের জন্য আরেক মাথাব্যথার কারণ।

শেয়ার করুন !
  • 111
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply