বড় সর্বনাশের আগে এখনই যা করতে হবে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আজ সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন এখন গড়ে আড়াই হাজার করে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক নতুন সং’কটের দিকে এগোচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখনো করোনায় মৃ’তের হার কম। কিন্তু এই আশাবাদ ক্ষণস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, রোগীর সংখ্যা বাড়লে সং’কটাপন্ন রোগীও বাড়বে। একইসাথে বিনা চিকিৎসায় মৃ’তের হারও বেড়ে যেতে পারে।

ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে যেমন রোগী মা’রা যাচ্ছে, তেমনি বাড়িতেও রোগী মা’রা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু সং’কট সামনে এসেছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছেনা। করোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে সমস্যাটি প্র’কট হয়ে উঠছে তা হলো অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের চূড়ান্ত সর্বনাশ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। আর এটি ঠেকাতে হলে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শগুলো দেখা যাক-

১. ঢাকার বাইরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণ ছিল শুধুমাত্র ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু যত সং’ক্রমণ বাড়ছে তত দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় ঢাকার বাইরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার তেমন সুযোগ-সুবিধা এখন পর্যন্ত নেই। কিন্তু এই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকার বাইরে যে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো রয়েছে সেগুলোকেও চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। যেন দ্রুত রোগী সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের শয্যা নিয়ে সং’কটে পড়তে না হয়। ইতিমধ্যে শয্যা সং’কট শুরু হয়ে গেছে। এখন সুস্থতা এবং মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাদ দিলেও প্রায় ৪০ হাজার রোগী রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের হাসপাতালের মোট শয্যার থেকে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। তখন সং’কট আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. অ’স্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করতে হবে

ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে যখন রোগী বাড়ছে, তখন অ’স্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের কোন বিকল্প নেই বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতালের বিছানা স্থাপিত করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ তৈরি করেই করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল বানানো যায় এবং চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এই কাজটির জন্য আর অপেক্ষা নয়, অনতিবিলম্বে কাজ শুরু করা দরকার বলেও তারা মনে করছেন।

৩. চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার প্রটোকল তৈরি করতে হবে

করোনা চিকিৎসায় বিভিন্ন হাসপাতাল বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এটার ফলে জটিলতা ও সং’কট তৈরি হচ্ছে। এই কারণে চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার একটি সুনির্দিষ্ট প্রটোকল তৈরি করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যাতে সবগুলো হাসপাতাল এক এবং অ’ভিন্নভাবে চিকিৎসা দিতে পারে এবং এই ব্যাপারে গবেষণা করা দরকার বলেও মনে করা হচ্ছে। যে পদ্ধতিগুলো এখন পর্যন্ত অনুসরণ করা হচ্ছে, সেই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটা সবচেয়ে কার্যকর সেটা নিশ্চিত করে বা একাধিক বিকল্প পদ্ধতি বের করে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা দরকার বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. বাসায় চিকিৎসার গাইডলাইন প্রয়োজন

করোনা রোগীর ৮০ ভাগই মৃদু উপসর্গ বিশিষ্ট। চিকিৎসকরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শ্বাসক’ষ্ট না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বাসায় বসেই চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি দেখা যাচ্ছে। সেই বিভিন্ন পদ্ধতির বদলে একটি সুনির্দিষ্ট করণীয় গাইডলাইন তৈরি এবং সেটা ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দ্রুত অনেক রোগী আক্রা’ন্ত হওয়ার ফলে হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে বাসায় বসে অধিকতর চিকিৎসাই জরুরী।

৫. আরো চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী দরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সং’ক্রমণের শুরুতেই ২ হাজার চিকিৎসক এবং আরো ৩ হাজার নার্স নিয়োগ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি টেকনিশিয়ান নিয়োগেরও অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু করোনা সং’ক্রমণ যদি বাড়তে থাকে এবং আমাদের দীর্ঘদিন যদি করোনার সঙ্গে বসবাস করতে হয় তাহলে আরো চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এখনই কাজ করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন !
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!