ল্যাব টেকনিশিয়ানদের পকেটের টাকায় সরঞ্জাম কিনে রোগীর নমুনা পরীক্ষা চলছে!

0

ময়মনসিংহ প্রতিনিধ:

ময়মনসিংহে নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নেই সরকারিভাবে। ল্যাব টেকনিশিয়ানরা পকেটের টাকা খরচ করে বাজার থেকে উচ্চমূল্যে সামগ্রী কিনে রোগীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা বলছেন, খোলাবাজারে প্রতি ১০০টি সোয়াব স্টিকের প্যাকেটের দাম ছিল ১০০ টাকা, আর এখন কিনতে হচ্ছে ৫ শতাধিক টাকায়। এ ছাড়া জিপ-লক ব্যাগ দেড়শ টাকায় এবং ১০০ টাকার এম্পটি স্ক্রু ক্যাপড টিউব কিনতে হচ্ছে সাড়ে ৫০০ টাকা করে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার জনসংখ্যা পৌনে ৭ লাখ এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা সোয়া ৮ লাখ। এই ১৫ লাখ লোকের করোনার নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে আছেন মাত্র ১ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান। সম্প্রতি আরও একজনকে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে। ইদানীং করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ল্যাব টেকনিশিয়ানরা বিশাল এলাকায় রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আরও কমপক্ষে ৫ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োজিত করা প্রয়োজন ও কমপক্ষে ৪টি নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করার জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খান সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে সরবরাহ সামগ্রীর সং’কট দেখা দিলে বরাদ্দের টাকা দিয়ে খোলাবাজার থেকে সামগ্রী ক্রয় করে নেবেন।

যদিও করোনা সংক্রান্ত ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ১ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বার্ষিক এমএসআর খাতে কিছু টাকা ছিল। তা থেকে খরচ করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। অথচ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ পর্যন্ত লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছে বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান কবীর জানান, নমুনা সংগ্রহ সামগ্রীর সং’কট এবং নিজস্ব টাকায় সামগ্রী ক্রয়সং’ক্রান্ত কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত গত ১ মার্চের এক প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। কার্যপরিধিতে বলা হয়, জেলা কমিটি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনে কোয়ারান্টাইনসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। করোনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জাতীয় কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করবে।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিএমএ’র করোনা মনিটরিং সেল ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি প্রফেসর ডা. মতিউর রহমান ভূঁইয়া বিভাগের ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনসহ প্রতিটি উপজেলা ও পৌর এলাকায় নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যানবাহনসহ অন্যান্য সাপোর্ট সরকারিভাবে সরবরাহ করার জন্য জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply