গত দেড় বছরে সরকারের ব্যর্থ ৫ মন্ত্রী এবং কারন

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সে হিসেবে বর্তমান সরকারের দেড় বছর পূর্ণ হলো আজ। গত ১১ বছরের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি। তবে সাফল্য সত্ত্বেও চলতি মেয়াদে সরকারকে বারবার বি’ব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। আর করোনা সং’কটে সেটা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণেই সরকারের সফলতাগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে। সরকারের দেড় বছর পূর্তিতে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমন ৫ ব্যর্থ মন্ত্রীর নাম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক

ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে শীর্ষে থাকছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক। তিনি বারবার তার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। গত বছর দেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে চলে যান জাহিদ মালেক। আর এ বছর করোনায় যখন মহাসং’কটে দেশ, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেকটা অবুঝ বালকের মতো আচরণ করছেন। কীভাবে সং’কট সামাল দিতে হবে, পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, কিছুই যেন তিনি জানেন না, বোঝেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়হীনতা আছেই, তার সঙ্গে রয়েছে দুর্নীতির ঢালাও অভিযোগ। সবকিছু ছাপিয়ে মন্ত্রী সমালোচিত হচ্ছেন তার ভুলে ভরা কথাবার্তার জন্য। করোনা নিয়ে তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন, পিপিই-কে পিপিপি বলে হাসির পাত্র হচ্ছেন। কখনও আবার তার কথায় সরকারের সমালোচনা উঠে আসছে। সব মিলিয়ে ব্যর্থতায় চ্যাম্পিয়ন বলা যায় তাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমান সরকারের অন্যতম ব্যর্থ মন্ত্রী। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও পেঁয়াজের দামের বিশ্বরেকর্ড তাকে ব্যর্থতার তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। টিপু মুনশি নিজে তার ব্যর্থতার কথা অ’স্বীকার করেননি। পেঁয়াজ সং’কটের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘পদত্যাগ ১ সেকেন্ডের বিষয়’। যদিও পদত্যাগ তিনি করেননি। এবার করোনা সং’কটে নতুন করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। গত ৫ এপ্রিল সরকারি নির্দেশনা ল’ঙ্ঘন করে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই একজন গার্মেন্টস মালিক। ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেটি ছিল সরকারি আইনের সুস্পষ্ট ল’ঙ্ঘন। সং’ক্রমণ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর গার্মেন্টস কর্মীদের ভ’য়ভীতি দেখিয়ে কর্মক্ষেত্রে আনা হয়। লকডাউনের মধ্যে হাজার হাজার কর্মী পায়ে হেঁটেও গ্রাম থেকে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে বাধ্য হন। এরপর তাদের জানানো হয় গার্মেন্টস খুলবে না। তখন অনেকেই বিপাকে পড়ে যান। অনেকের বেতন ভাতাও ঠিকভাবে পরিশো’ধ করা হয়নি। এজন্য অনেক এলাকায় গার্মেন্টস কর্মীরা বিক্ষো’ভও করেছেন। কিন্তু এই পুরোটা সময় আমরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে ফলপ্রসূ কোনও ব্যবস্থাই নিতে দেখা যায়নি।

মুক্তিযু’দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

সরকারের আরেক ব্যর্থ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গত ১৫ ডিসেম্বর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযু’দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই তালিকায় নাম আসে বেশ করেকজন স্বনামধন্য মুক্তিযো’দ্ধার। তা নিয়ে শুরু হয় বিত’র্ক। এরপর কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসার মতো করে মন্ত্রীর হাস্যকর সব কর্মকাণ্ড ফাঁ’স হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাজাকারদের সেই তালিকা স্থ’গিত করা হয়। অন্যদিকে বলা হয়, এ বছর ২৬ মার্চে মুক্তিযো’দ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই তালিকাও আর আসেনি। মুক্তিযু’দ্ধ মন্ত্রণালয় আদৌ কোনো কাজ করে কিনা সেটাই এক বড় প্রশ্ন।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনও থাকছেন ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায়। একের পর এক রেল দুর্ঘটনা, রেল নিয়ে নানান নৈ’রাজ্য এবং নজিরবিহীন সময় বিভ্রা’ট রেলকে এক নতুন সং’কটের মুখে ফেলেছে। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তার নেতৃত্বে রেল সপ্তাহসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হলেও রেলের নৈ’রাজ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি টিকেটের কালোবাজারি, দুর্নীতি, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, অ’নিয়ম রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। এক্ষেত্রে রেলমন্ত্রী ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন

ড. এ কে আব্দুল মোমেন আরেক ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তার সময়ে নতুন টানাপোড়েনের সামনে পড়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছুই করতে পারছেন না তিনি। কিছু দিন পরপরই আমরা তাকে বড় বড় বুলি আওড়াতে শুনছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখন করোনা সং’কটে বিদেশ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সময় আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে অনেক কিছুই করতে পারতো। কিন্তু তার কাছ থেকে আমরা বক্তব্য-বিবৃতি ছাড়া আর কিছু পাচ্ছি না।

এই ৫ মন্ত্রীর নানা ব্যর্থতার কারণে সরকার গত ২ মেয়াদে যে রকম সাফল্য অর্জন করেছিল এবং উন্নয়নের যে গতির সূচনা হয়েছিল, ৩য় মেয়াদে এসে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই এই মন্ত্রীদের ব্যর্থতার ভার বহন করতে হচ্ছে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 1.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!