ডা. ফেরদৌস খন্দকারের মামা মোশতাক বেঁচে আছেন, নাম নিয়েই যত বি’ভ্রাট

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্ট অপ’প্রচার নিয়ে কিছু কথা।

সব খন্দকার মোশতাকই বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধোলাই খাওয়া খন্দকার মোশতাক না। যারা ডা. ফেরদৌস খন্দকারের মত একজন মহান চিকিৎসককে কল’ঙ্কিত করতে চেয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিরেক্টর অব হেলথ পদে যাকে বিবেচনা করা হলো, ডিজিএফআই এবং এনএসআই এর ক্লিয়ারেন্সের পর, তার কারনে অনেকেরই ‘বেদনাহত’ হওয়া স্বাভাবিক। সেজন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা লোকজন, যারা মোশতাক-রশীদদের পীর মানে, তারাই ডা. ফেরদৌস খন্দকারের বস্ত্রহ’রণে নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে ডা. ফেরদৌসের সহপাঠী ডা. সাইফুল ভুঁইয়া বলেছেন-

“চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ৩২ তম ব্যাচের ডা. ফেরদৌস খন্দকার রাজপথে অনেক মিছিল মিটিংয়ের কন্ঠস্বর। ৯০ থেকে ৯৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের কর্মী থাকা সাধারণ ব্যপার ছিলো না। ১৯৯৩ সালে ট্রিপল মার্ডারের পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপর কী পা’শবিক অ’ত্যাচার চলেছিলো, চট্টগ্রামের বাইরের কেউ আন্দাজ করতে পারবে না।

ক্যাম্পাস থেকে বি’তাড়িত হয়ে আমরা নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে মেস ভাড়া করে থাকতে শুরু করলাম। দামপাড়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী কয়েকটি বাড়ি ভাড়া করে থেকেছি। তখন ডা. ফেরদসৌস খন্দকারও ছিলো আমার রুমমেট। আমাদের সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীও থাকতো।

মনে আছে এক রাতে পুলিশ বাড়ি রেইড দিয়ে ফেরদৌস খন্দকারের রুম থেকে ট্রিপল মার্ডারের মিথ্যা অভিযোগে আমাদের বন্ধু ডা. শামীম আহমেদ (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেডিওলোজি বিভাগের অধ্যাপক) গ্রেপ্তার করে (পরবর্তীতে বে’কসুর খালাস)। আমার প্রশ্ন, ফেরদৌস যদি ছাত্রলীগ না হতো অথবা ঐ সময়ে আওয়ামীবিরো’ধী কারো তেমন আত্মীয় হতো, তাহলে খুব ভালোভাবেই ক্যাম্পাসে আরামে থাকতে পারতো না? আর মামলার আসামী ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে একই বাড়িতে থাকতো?

আজ ফেরদৌসের বিরু’দ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। কারণ সে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছে। আমার নামে কোন অভিযোগ নেই কারণ আমি কারো জন্য কিছুই করছি না।”

মুক্তিযু’দ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও ব্লগার অমি রহমান পিয়াল এর সেই বিখ্যাত রিস্টব্যান্ড নিলামে তোলা হয়েছিল সিলেটের বাউল রণেশ ঠাকুরের সাহায্যার্থে। সেই রিস্টব্যান্ডটি ১ লাখ টাকায় কিনে নিয়ে সেই টাকা বাউলকে রাতারাতি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এই মহানুভব ডা. ফেরদৌস খন্দকার। দেশের টানে তিনি আজ ফিরে এসেছেন তার অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে। সাথে চিকিৎসক নার্সদের জন্য নিয়ে এনেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও। আমেরিকার উন্নত জীবনের হাতছানি পায়ে দলে দেশে ফিরেছেন এমন ক্রান্তিকালে।

এই মানুষটা আজ বড় আক্ষেপ নিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছেন-

“জানিনা কেন আমাকে নিয়ে এসব অপ’প্রচার চলছে। আমি বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের আত্মীয় না, আমার কোন আত্মীয় বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের আত্মীয় না। আমি এমপি বা মিনিস্টার হতে আসিনি, আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমার শিক্ষা এবং মেধা মানুষের কাজে লাগাতে। সেটা যদি অপরাধ হয় আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু মিথ্যা অপ’বাদ দিয়ে আমাকে অপমান করবেন না। এটা আমার প্রাপ্য না।

দেশে এসেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে। তার জন্যে জীবনের ঝুঁ’কি নিতেও আমি পিছপা হইনি। যখন ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি দেশে এসেছি, তখন একদল লোক আমার বিরু’দ্ধে মিথ্যা অপ’প্রচার শুরু করেছে।

বলা হচ্ছে, আমি নাকি খু’নি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা খু’নি কর্ণেল রশিদের খালাতো ভাই। অথচ পুরো বিষয়টি কাল্পনিক। আমার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। কুমিল্লায় বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বাড়ি। কুমিল্লা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা। কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খু’নি মোশতাকের ভাতিজা কিংবা কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হয়ে যায় না।

আমি স্পষ্ট করে বলছি, এই দুই খু’নির সাথে আমার পারিবারিক কিংবা আদর্শিক কোন সম্পর্ক নেই। বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমি, তাদেরকে চরম ঘৃ’ণা করি। ফলে যারা এই খারাপ কথাগুলো ছড়াচ্ছেন, বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার; ভালো কাজে বাধা দেয়া। এটা অ’ন্যায়। আমি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃ’ণা জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রমাণের জন্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি। যদি মনে করেন আমার সেবা আপনাদের দরকার, তাহলে পাশে থাকুন।”

যেখানে বড় বড় ডিগ্রিধারীরা বিদেশে বসে দেশের সমালোচনা করে দিনরাত, সেখানে কিছু মানুষ দেশের প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ফিরে আসেন ল’ড়াই করার মানসে। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করায় তার ইজ্জতহর’ণ করতে দুইবার ভাবেনি সেই ‘বেদনাহত’ লোকজন।

এখানে উল্লেখ্য, ডা. ফেরদৌস খন্দকারের মামার নাম মোশতাক আহমেদ। তিনি বোস্টনে থাকেন এবং বর্তমানে জীবিত। অতি আগ্রহীরা সেখানে গিয়ে পাত্তা লাগাতে পারেন।

লেখক: শওকত খান
পরিচিতি: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার।

শেয়ার করুন !
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!