করোনায় এমপি ইব্রাহিমের অনন্য উদ্যোগ, অনুকরণীয় হতে পারে সবার জন্য

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ- অক্সিজেন সরবরাহ। কিন্তু পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে জীবন সং’কটে পড়ছে রোগীরা। দেশের সর্বত্রই এই অবস্থা চলছে। এমন অবস্থায় এক অ’সামান্য উদ্যোগ নিয়েছেন নোয়াখালী-১ এর মাননীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে করোনা রোগীদের জন্য একটি আইসোলেশন সেন্টার এবং নিরবচ্ছি’ন্ন অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন-

‘সমগ্র বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, আমার নির্বাচনী এলাকায়ও এই সং’ক্রমণের হার বাড়ছে। যার ফলে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে তৈরী হয়েছে বেড সং’কট, অক্সিজেন সং’কট। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু এই আইসোলেশনে যাদের মৃদু মানের উপসর্গ আছে তাদের সেবা দেয়া সম্ভবপর। যাদের মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গ এবং সবসময় অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন হয় তাদের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রেরণ করা হতো। বর্তমানে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতেও এখন আর স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

এই মূর্হুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করে তাতে প্রয়োজনবোধে মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গের করোনা রোগীদের জরুরি অক্সিজেন সরবরাহের নিশ্চয়তা এখন সময়ের দাবী। যদি এই ব্যাবস্থা করা যায় তবে তা হবে সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারে ২০০০ লিটার অক্সিজেন থাকে। মাঝারী ধরনের শ্বাসক’ষ্ট দেখা দেয় এমন করোনা রোগীকে মিনিমাম ৩-৪ লিটার অক্সিজেন প্রতি মিনিটে দিতে হয় এবং এটা তীব্রতা অনুযায়ী ৬-১০ লিটারও দেয়া লাগে। যার জন্য রোগীর আইসিউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। একজনের জন্য যদি মিনিমাম মিনিট প্রতি ৩ লিটারও লাগে, তবে ২০০০ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার শেষ হতে বেশী সময় লাগেনা। এতে নিরবিচ্ছি’ন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা দূরহ হয়ে পড়ে এবং একটা শেষ করে আরেকটা প্রস্তুত করা ঐ সময়ে সময়সাপেক্ষ ও রোগীর জন্যও ঝুঁ’কিপূর্ণ। আর রোগীর সংখ্যা যদি একের অধিক হয় তবে ব্যাপারটা কতটা দূরহ তা অনুমানের অপেক্ষা রাখেনা।

তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাঝারি উপসর্গের করোনা রোগীদের প্রধান অন্তরায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন না থাকা। এখন পর্যন্ত কোন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ব্যবস্থা নাই। কিন্তু সময়ের দাবীতে এটা প্রস্তুত করতে পারলে একদিকে যেমন কিছু প্রাণ বেঁচে যেতে পারে, তেমনি জেলা বা শহর পর্যায়ের ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতেও চাপ কমবে।

আমার নির্বাচনী এলাকার করোনা রোগীরা যাতে নিরবিচ্ছি’ন্ন অক্সিজেন পায় এই উপলব্ধি থেকে আমার নিজস্ব তহবিল হতে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ অত্যাধুনিক ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার এই উদ্যোগটি আমি হাতে নিয়েছি যেখানে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের বেডগুলো আলাদা থাকবে এবং এর কার্যক্রম আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব তন্ময় দাস, সিভিল সার্জন জনাব ডা. মোমিনুর রশিদ, চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দিদারুল আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ অত্যাধুনিক ১০ শয্যার যে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরী করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে তাতে ৮টি সিলিন্ডার থাকবে, যার একেকটির ধারণক্ষমতা ২৮,৮০০ লিটার। এর ফলে ১০টি শয্যার ১০ জন মাঝারি উপসর্গের করোনা রোগীকে সর্বাধিক ৬ লিটার অক্সিজেন মিনিট প্রতি নিরবিচ্ছি’ন্নভাবে সরবরাহ করা যাবে। এতে করে বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণ, বেঁচে যেতে পারে একটি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, টিকে থাকবে একজন সন্তানের মা-বাবা বলে ডাকতে পারার আনন্দ, টিকে থাকবে প্রিয়জনের হাসিমাখা মুখ, সর্বোপরি জয় হবে মানবতার। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এইটুকুই আমার আনন্দ।

সবশেষে বলবো সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ঘরে থাকুন, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং নিরাপদে থাকুন।’

শেয়ার করুন !
  • 3.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!