বালিশকাণ্ডকে হার মানানো স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির নথি: নেপথ্যে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতা

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা সং’ক্রমণের শুরু থেকেই একের পর এক বিভ্রা’ন্তিকর ও সামঞ্জস্যহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি প্র’কট আকার ধারণ করেছে বলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। সকল চিকিৎসকই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করেন।

এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছাত্রদলের একজন সাবেক ক্যাডার ও ড্যাব নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে করোনা মোকাবেলার সমস্ত দায়িত্ব! আর সেই ড্যাব নেতাই করোনা মোকাবেলায় নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করছেন। যা ‘বালিশকাণ্ড’কেও হার মানিয়ে দিয়েছে। শুধু পিপিই বা অন্যান্য সামগ্রী নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশে সফটওয়্যার কিনতে গিয়েও এই ড্যাব নেতা যে মূল্য প্রাক্কলন করেছেন, তা ভ’য়াবহ।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ৪টি ওয়েবসাইট উন্নয়নের খরচের জন্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি ডাটাবেজ তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি সফটওয়্যারের জন্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। এছাড়াও অন্যান্য যে খরচগুলো ধরা হয়েছে, তা আরেকটি নতুন ‘বালিশকাণ্ড’র মতো ঘটনা।

অবাক করা ব্যাপার হলো, যাকে এই করোনা মোকাবেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি একসঙ্গে ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দক্ষ লোকের এতই অভাব যে, একজন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডা. মো. ইকবাল কবীর এখন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমত তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে কাজ করছেন। তারপর তিনি লাইন ডিরেক্টর (পরিকল্পনা) পদেও রয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইমার্জেন্সি কোভিড রেসপন্স প্রকল্পে তাকে প্রকল্প প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্পটি ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৮৫০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কেনাকাটায় যে মূল্য ধরা হয়েছে তা ‘বালিশকাণ্ড’কেও লজ্জায় ফেলবে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, ডা. মো. ইকবাল কবীরকে এডিবির অর্থ সহায়তায় ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্ট অন কোভিড-১৯’ এর প্রকল্প প্রধানও করা হয়েছে। এটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এখানে এডিবির ৮৫০ কোটি টাকার অর্থায়ন রয়েছে। এছাড়া বাকি অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে একটা সমঝোতার চেষ্টা করেন ডা. মো. ইকবাল কবীর। এ সময় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এবং বিএমএ’র তোপের মুখে পড়েন তিনি। তারপরও আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। ২০১৪ সালে মোহাম্মদ নাসিম আসার পর কোণঠাসা হয়ে পড়েন ডা. মো. ইকবাল কবীর। তাকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত, তারাও মোহাম্মদ নাসিমের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছে ডা. মো. ইকবাল কবীরকে উপস্থাপন করতে পারেননি।

এরপর মন্ত্রী হন জাহিদ মালেক। সচিব হন আসাদুল ইসলাম। আসাদুল ইসলাম ডা. মো. ইকবাল কবীরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। আসাদুল ইসলামের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইকবাল কবীর। তার পৃষ্ঠপোষকতা এবং তার আগ্রহের কারণেই ডা. ইকবাল কবীরকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) অনেক চিকিৎসক এবং বিএমএ’র অনেক নেতা বলেছেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলার মূল দায়িত্ব যখন দেওয়া হয়েছে এরকম একজন ড্যাব নেতাকে, তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তো বিভ্রা’ন্তিকর সিদ্ধান্ত নেবেই, একের পর এক ভুল করবেই। বিএনপি শুরু থেকেই চেয়েছে, করোনা মোকাবেলায় সরকার যেন ব্যর্থ হয়।

তারা আগাম তথ্য দিচ্ছে, সরকার কী কী ভুল করছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, স্বাস্থ্য ক্যাডারে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বহু চিকিৎসক কর্মকর্তা থাকতে ডা. ইকবাল কবীরকে একসঙ্গে ৪টি দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ কী? তিনি কি খুবই অপরিহার্য?

তথ্য: বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 2.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply