করোনার ডেড জোন চট্টগ্রামে এক ডজন রেড জোন!

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামকে বলা হচ্ছে করোনার ডেড জোন! প্রতিদিনই আক্রা’ন্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এখানে। কয়েকটি এলাকায় এ সংখ্যা রীতিমত উদ্বেগজনক। এসব এলাকাকে রেড জোনের তালিকায় এনেছে সরকার।

গত ২ মাসে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও জেলার উপজেলাগুলোতে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ আক্রা’ন্ত হয়েছেন। গত ৮ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৪ হাজার ১৬৮ জন করোনায় আক্রা’ন্ত হয়েছে। তার মধ্যে নগরীতে ২ হাজার ৯৯৯ জন এবং উপজেলায় ১ হাজার ১৬৯ জন রয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত করোনায় মা’রা গেছেন ১০১ জন। এর মধ্যে নগরীতে ৮১ জন এবং উপজেলার ২০ জন বলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে প্রথম করোনা আক্রা’ন্ত হয়েছে দামপাড়া এলাকায় এবং প্রথম করোনায় মা’রা গেছে সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায়। এরপর থেকে আক্রা’ন্ত বাড়ছেই।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি থানার মধ্যে ১২টি থানাই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত কোতোয়ালি থানা এলাকায়। সর্বোচ্চ মৃ’ত্যু পাহাড়তলী এলাকায়। হালিশহর এলাকা রয়েছে ২য় সর্বোচ্চ মৃ’ত্যু। এরপর কোতোয়ালি এলাকা।

রেড জোনের তালিকায় থাকা খুলশী, আকবরশাহ এলাকায়ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। অন্যদিকে ৯ জুন পর্যন্ত করোনায় মা’রা গেছেন ১০১ জন। এর মধ্যে নগরীতে ৭৮ জন এবং উপজেলার ১৯ জন। গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় প্রথম করোনা পজেটিভ রোগী মা’রা যান। বর্তমানে ৮ জুন পর্যন্ত ১০১ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মা’রা গেছেন নগরীর পাহাড়তলীতে। সেখানে ১০ জন মা’রা গেছেন।

এরপর হালিশহরে ৮ জন, খুলশী ও আকবরশাহ এলাকায় ৫ জন করে ১০ জন, এর বাইরে চকবাজারে ২ জন, বন্দরে ১ জন, ডবলমুরিং এ ৩ জন, বাকলিয়ায় ২ জন, বায়েজিদে ১ জন, পতেঙ্গায় ১ জন, সুগন্ধা-মোহরা এলাকায় ২ জন, লালখানবাজারে ১ জন, মাদারবাড়িতে ২ জন, কদমতলীতে ১ জন, আগ্রাবাদে ২ জন, চান্দগাঁও এলাকায় ১ জন, বহর্দ্দারহাট এলাকায় ১ জন, পাঁচলাইশ এলাকায় ৩ জন করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেছেন।

তাছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নগরী ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় করোনায় মোট মা’রা গেছেন ১০১ জন।

করোনায় সর্বশেষ খবর চট্টগ্রাম: নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৯৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নগরের ৩টি ল্যাব এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে মোট ৫৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ১৯৬টি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ২৩২টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১২৫টি এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রামের ২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে বিআইটিআইডিতে ৩৬ জন, সিভাসুতে ৩৩ জন, চমেকে ১৭ জনের করোনা পজেটিভ হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল বলেন, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯ জন আক্রা’ন্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরে ৬৫ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪ জন। এখন পর্যন্ত করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা ৪ হাজার ১৬৮ জন। মা’রা গেছেন গতকাল পর্যন্ত ১০১ জন।

শেয়ার করুন !
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply