তবে কি এ মাসেই করোনার রুদ্ররূপ দেখতে চলেছে বাংলাদেশ?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশ করোনা সং’ক্রমণের চতুর্থ মাসে পা রেখেছে। গতকাল বাংলাদেশে এক দিনে করোনা আক্রা’ন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ১৭১ এবং আজ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা সং’ক্রমণের যে হিসেব দিয়েছে, সেই হিসেবও একইরকম। বাংলাদেশে আজ আগের দিনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। আজ ৩ হাজার ১৯০ জন করোনা রোগী নতুন করে শনাক্ত হয়েছে।

চতুর্থ মাসে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাসেই করোনা তার রুদ্ররূপ দেখাতে পারে। পৃথিবীর যে দেশগুলোতে করোনার সং’ক্রমণ ভ’য়াবহ আকার ধারণ করেছিল এবং আক্রা’ন্তের দিক থেকে যে দেশগুলো এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সেই দেশগুলোর হিসেব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ দেশেই চতুর্থ মাসে গিয়ে সং’ক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেছে। ঐ মাসেই করোনা দেশগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও সে রকম পরিস্থিতি হচ্ছে কি না এরকম প্রশ্ন করলে বিশেষজ্ঞরা শ’ঙ্কা করছেন, বাংলাদেশ সম্ভবত সেই পথেই যাচ্ছে। কারণ চতুর্থ মাসের শুরুতেই মৃ’ত্যুসংখ্যা নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছিল। একদিনে রেকর্ড ৪৫ জনের মৃ’ত্যু দেখেছিলাম আর দ্বিতীয় দিনেই আমরা মোট মৃ’ত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়ালাম। কাজেই এখন বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সামনের দিনে আরো ভ’য়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকার যে লকডাউন দিয়েছিল এবং সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছিল তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সেই ছুটির মধ্যে আমরা অনেক শৈথিল্য দেখিয়েছি। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক স্থ’বিরতার কথা ভেবে এক রকম বাধ্য হয়ে সবকিছু খুলে দেওয়ার পর করোনার সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই হার বাড়তে থাকবে। যদিও এক্ষেত্রে কতদিন এভাবে বাড়তে থাকবে তা নিয়ে এখনই কোন পূর্বানুমান করেননি তিনি।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান যে করোনা পরিস্থিতি তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়। কারণ এখন সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, মানুষ কাজের জন্য মেলামেশা করছে, এখানে-সেখানে যাচ্ছে- যার ফলে সং’ক্রমণ এখনো ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী মনে করেন, করোনা মোকাবেলার জন্য সরকার যে রেড, ইয়োলো, গ্রিন জোন করে ক্ষুদ্র এলাকা লকডাউন করছে তাতেও খুব একটা কাজ হবেনা। বরং এমন খোলামেলা থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখি এবং স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলি তাহলে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে পারবো। তবে অনেকের মতে, ব্যক্তিগত সুরক্ষার থেকেও ঘরে থাকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দেশগুলো করোনা মোকাবেলায় সফল হয়েছে তারা লকডাউন পদ্ধতিতেই সফল হয়েছে। আর এজন্য বাংলাদেশে আবার নতুন করে লকডাউনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন কেউ কেউ। যদিও নৈ’রাশ্যবাদীদের মতে, যতটা ছড়িয়েছে, তাতে লকডাউন করেও শেষ রক্ষা সম্ভব না।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীলসূত্র বলছে, তারা আপাতত পুরো দেশকে লকডাউনের পথে না গিয়ে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের পক্ষপাতী। এতে করোনা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হবে কি না তা দেখার বিষয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে এ মাসেই ভয়ং’কর রূপে আসবে করোনা, তবে তা কতটা ভয়ং’কর হবে বুঝতে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। সেজন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকা দরকার।

শুরু থেকেই আমরা করোনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে করোনা খুব একটা তা’ণ্ডব দেখাবে না বলেও অনেকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের অ’সচেতনতার কারনে পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে, করোনা সং’ক্রমণের ঝুঁ’কিতে বাংলাদেশে এখন নিজেদেরকে ১৯তম দেশ হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছে এবং সামনের দিনগুলোতে যে করোনা বাংলাদেশের জন্য আরো ভ’য়াবহ হবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!