কুমিল্লায় আপন চাচার লাগাতার ধ’র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী ভাতিজি, সন্তানের দায় নেবে কে?

1

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আপন চাচার লাগাতার ধ’র্ষণে ভাতিজি (১৪) এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের হেসিয়ারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। চাচা সোহেল (৪৫) একই গ্রামের আবদুল মন্নানের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরি মেয়েটির মা দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে চলে যেতেন। বাড়িতে থাকলে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতেন। এ সুযোগে চাচা এই জ’ঘন্য কাজ করে আসছিল। গত ৪ মে মেয়েটির মা মা’রা গেলে আত্মীয়রা ঘরে এসে মেয়েটির শারীরিক অবস্থা দেখে তার গর্ভধারণের বিষয়টি টের পায়। পরে সোহেলের স্ত্রী বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্নিনিকে নিয়ে যায় অ্যাবর্শন করতে। কিন্তু চিকিৎসকরা গর্ভধারণের সময় সন্নিকটে বলে জানান, এতে প্রসূতির লাইফরিস্ক হতে পারে।

এদিকে বিষয়টি এলাকাবাসীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার সচেতন মহল এ ঘটনায় কিশোরীর চাচা সোহেলের বিচার দাবি করেন।

এক পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত ৭ জুন হেসিয়ারা গ্রামের মাতবররা সালিশ বৈঠকে বসেন। সেখানে চাচা সোহেলকে দায়ী করা হলে সে ঘটনাটি অ’স্বীকার করে। এ সময় মাতবররা সোহেলকে স্বীকারো’ক্তির জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়, অন্যথায় থানায় মামলা করে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সন্তানের পরিচয় বের করা হবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

পরে ৯ জুন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাতবররা পুনরায় সালিশে বসার কথা থাকলেও সমন্বয়হীনতায় শেষ পর্যন্ত সালিশ বসেনি। এদিকে গত ৫ দিনেও সামাজিকভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় এলাকায় ঢাকঢাক গুড়গুড় চলছে।

এদিকে সোহেল তার ৩টি গরু প্রায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে মাতবর ও কিশোরীর বাবার মুখ বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এলাকার সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারে সোচ্চার থাকলেও কতিপয় মাতবর বিচারের নামে কালক্ষেপণ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সোহেল প্রকৃত ঘটনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে গ্রামের মুরুব্বি পোস্টমাস্টার আবুল হাশেমের ছেলে রিয়াদ ঘটনার সাথে জড়িত বলে এলাকায় প্রচার করলেও কিশোরী তার স্টেটমেন্টে চাচা সোহেল ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ করেননি।

কিশোরীর ভাই রাসেল জানান, আমাদের সাথে কারো শ’ত্রুতা নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। যে আমার বোনের জীবন ন’ষ্ট করেছে, আমরা তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। ন্যায়বিচার না পেলে আমরা গলায় ফাঁ’স দিতে বাধ্য হবো। এছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।

সব অভিযোগ অ’স্বীকার করে সোহেল জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সালিশে আমি দোষী হলে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা আমি মেনে নিব।

স্থানীয় বাঙ্গড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বসেছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক, তার সাজা দাবি করছি।

নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 2.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

error: Content is protected !!