অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই বিএনপি নেতাকে

0

সময় এখন ডেস্ক:

ছাত্রদলের নেতা হয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বে থাকা বিত’র্কিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো.ইকবাল কবীরকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং একাধিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই তাকে এই দায়িত্বগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই সময় এখন পোর্টাল এর প্রতিবেদন থেকে পাঠক জেনেছেন, সাবেক ছাত্রদলের ক্যাডার, পরবর্তীতে বিএনপিপন্থ চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে করোনা মোকাবেলার সমস্ত দায়িত্ব। আর সেই ড্যাব নেতাই করোনা মোকাবেলায় নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করছেন। যে কেনাকাটাগুলো ‘বালিশকাণ্ড’ -কেও হার মানিয়ে দিয়েছে। শুধু পিপিই বা অন্যান্য সামগ্রী নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশে সফটওয়্যার কিনতে তিনি যে মূল্য প্রাক্কলন করেছেন, তা ভ’য়াবহ।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ৪টি ওয়েবসাইট উন্নয়নের খরচের জন্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি ডাটাবেজ তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি সফটওয়্যারের জন্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। এছাড়াও অন্যান্য যে খরচগুলো ধরা হয়েছে, তা আরেকটি নতুন ‘বালিশকাণ্ড’র মতো ঘটনা।

অবাক করা ব্যাপার হলো, যাকে এই করোনা মোকাবেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি একসঙ্গে ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দক্ষ লোকের এতই অভাব যে, একজন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডা. মো. ইকবাল কবীর এখন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমত তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে কাজ করছেন। তারপর তিনি লাইন ডিরেক্টর (পরিকল্পনা) পদেও রয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইমার্জেন্সি কোভিড রেসপন্স প্রকল্পে তাকে প্রকল্প প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্পটি ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৮৫০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কেনাকাটায় যে মূল্য ধরা হয়েছে তা ‘বালিশকাণ্ড’কেও লজ্জায় ফেলবে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, ডা. মো. ইকবাল কবীরকে এডিবির অর্থ সহায়তায় ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্ট অন কোভিড-১৯’ এর প্রকল্প প্রধানও করা হয়েছে। এটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এখানে এডিবির ৮৫০ কোটি টাকার অর্থায়ন রয়েছে। এছাড়া বাকি অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।

এসব প্রকল্পের কেনাকাটায় যে মূল্য ধরা হয়েছে তা সেই ‘বালিশকাণ্ড’ -কেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

সময় এখন পোর্টালে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা অসংখ্য সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি সরকারের নীতি নির্ধারকেরও দৃষ্টিগোচর হয়। অবশেষে তার বিরু’দ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার।

শেয়ার করুন !
  • 4.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!