জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাটসহ যেসব খাতে কালো টাকা বিনোয়োগ করা যাবে

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

২০২০-২১০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারসহ জমি, বিল্ডিং ও ফ্ল্যাটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব খাতে অ’প্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করলে কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই ঘোষণা দেন।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ার, বন্ড বা যে কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। বাজেট প্রস্তাবনায় পুঁজিবাজারের পাশাপাশি জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্রেও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে যা-ই থাকুক না কেন, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত শেয়ার, বন্ড বা যেকোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে চলমান ম’ন্দা কাটাতে এবং তারল্য সং’কট মোকাবিলায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। অর্থনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনেরা এমন প্রস্তাবনার বিরো’ধিতা করলেও অর্থমন্ত্রী বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রস্তাব করেছেন।

এই বাজেটে ভ্যাটের বোঝা কমলো

করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত এই আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেই সাথে কিছু পণ্যের শুল্ক ও করহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাড়তে পারে এসব পণ্যের দাম।

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছর হতে করমুক্ত আয়সীমা, করহার এবং কর ধাপ অপরিবর্তিত আছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে করদাতাদের প্রকৃত আয় হ্রাস পাওয়ায় এবং অন্যদিকে করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকায় প্রকৃতপক্ষে করদাতরা কর প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।

তিনি বলেন, করোনার কারণে করদাতারা আর্থিকভাবে ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবং মুজিববর্ষের উপার হিসেবে আমি কোম্পানি ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণির করদাতা বিশেষ করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বৃদ্ধি এবং করহার হ্রাসের প্রস্তাব করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির কারদাতাদের জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর করহার শূন্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ, তার পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, তার পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, তার পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং তার বেশি টাকা আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!