ভয়াবহ করোনার তা’ণ্ডব চলছে ‘ব্ল্যাক জুন’-এ

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণের চতুর্থ মাস চলছে। চতুর্থ মাসের শুরু থেকেই বাংলাদেশে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড স্থাপিত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের দিক হচ্ছে প্রতিদিনই ২১ শতাংশের বেশি হারে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে পরীক্ষার বিপরীতে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ২২ ভাগ এবং বাংলাদেশে করোনায় মোট রোগীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৫২৩ জন।

আগামীকাল বাংলাদেশ করোনার উৎস দেশ চীনকে অতিক্রম করতে যাচ্ছে বলেই অনুমান করা যায়। আর এই পরিস্থিতিতে করোনা বাংলাদেশের জন্য এক ভ’য়াবহ পরিণতি নিয়ে আসছে বলে আশ’ঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য করোনা পরিস্থিতিতে জুন হবে একটি ভ’য়ঙ্কর মাস এবং বাস্তবে তাই হচ্ছে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। পহেলা জুন থেকে শনাক্তের সংখ্যা আড়াই হাজারের আশেপাশে ছিল। গত ৯ জুন থেকে বাংলাদেশে দৈনিক করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার অতিক্রম করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে করোনার সং’ক্রমণ বাড়ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বাংলাদেশে হয়তো ৯০ দিনের পর করোনা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে, এখনো চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে কি না তা বোঝার উপায় নেই। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সামাজিক সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন কেউই সাধারণ ছুটি মানেনি। সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতার কারণে সাধারণ ছুটি কাজে আসেনি। এতেই সামাজিক সং’ক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এখনো স্পষ্ট নয়, করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, কবে কমতে থাকবে।

লকডাউন তুলে নেয়ার পর সবাই বেরিয়ে পড়েছে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে, গণপরিবহন চলছে- এই বাস্তবতায় করোনার লাগাম টেনে ধরার উপায় হলো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু সেই কাজটি করার ক্ষেত্রেও এখনো আমরা উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছি। তাই সামাজিক সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, এটা আরো বাড়বে। ফলে জুন মাস সত্যিকার অর্থেই ‘ব্ল্যাক জুন’ হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে এবং এর ফলে করোনা পরিস্থিতি আরো ভ’য়াবহ হবে। করোনা পরিস্থিতি ভ’য়াবহ হবে যে কারণগুলোর জন্যে সেগুলো হচ্ছে-

প্রথমত, সুস্থ এবং মৃ’তের সংখ্যা বাদ দিলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজারের উপর। অর্থাৎ আমাদের হাসপাতালের বেডের সংখ্যার থেকে রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। এটা আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক চরম সং’কটের মধ্যে ফেলেছে।

দ্বিতীয়ত, এখন বাড়িকেন্দ্রিক চিকিৎসাই আমাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ মানুষ বাসা-বাড়িতে এমনভাবে থাকি যে, বাসায় একজন করোনা রোগীকে আলাদা রাখা বা সম্পূর্ণ আইসোলেট করে রাখার মতো বাস্তব পরিস্থিতি নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত মানুষদের নেই। এই বাস্তবতায় যখনই একটি বাড়িতে কেউ করোনায় আক্রা’ন্ত হবে এবং তাকে হাসপাতালে নেয়া যাবেনা বা আইসোলেশনে নেওয়া যাবেনা, তখন অব’ধারিতভাবে সেই বাসায় সকলেই আক্রা’ন্ত হবে।

তৃতীয়ত, অনেকেই মৃদু উপসর্গ এবং আক্রা’ন্তের তথ্য গোপন করে কাজের জন্যে বের হচ্ছেন এবং সামাজিক সং’ক্রমণ ছড়াচ্ছেন। এর ফলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভ’য়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে বলে ভবিষ্যৎবাণী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখন একদিকে যেমন হাসপাতালে চিকিৎসা হবেনা, অন্যদিকে ঘরে আইসোলেশন করা প্রায় অ’সম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে বাড়িতে বসে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়বে, যা ইতিমধ্যে বেড়েছে। এই শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার প্রক্রিয়ার সাথে আমাদের মৃ’ত্যুর সংখ্যাও অ’বিশ্বাস্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশ’ঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।

দেখার বিষয় যে, ভ’য়ঙ্কর জুনের ভ’য়াবহ পরিস্থিতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কীভাবে মোকাবেলা করে, নাকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা সং’কট শুরুর পর থেকে যেভাবে ব্যর্থতার স্রোতে গা ভাসিয়েছে, সেই একই পথে হাঁটবে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 68
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!