পোলিও টিকা ঠেকাবে করোনা, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা!

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

কোভিড-১৯ এর কার্যকরী ভ্যাক্সিন তৈরিতে বিশ্বজুড়ে যখন রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে, তখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু বিশেষজ্ঞ পোলিওর একটি ভ্যাক্সিন নিয়ে আশার বাণী শোনালেন। পোলিওর ভ্যাক্সিনটি করোনা ভাইরাসের বিরু’দ্ধে ল’ড়াইয়ে সাময়িক সুরক্ষা দেয়ায় এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার বিখ্যাত সায়েন্স ম্যাগাজিনে একদল বিশেষজ্ঞ করোনায় পোলিওর ভ্যাক্সিনের সাময়িক সুরক্ষা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তারা বলেছেন, পোলিও ভ্যাক্সিনের মতো বিদ্যমান টিকাগুলো শিশুদের বিভিন্ন ধরনের সং’ক্রমণের বিরু’দ্ধে সুরক্ষা দেয় এবং এগুলোর নভেল করোনা ভাইরাসের বিরু’দ্ধে ল’ড়াই করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

তারা বলছেন, ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন তুলনামূলক নিরাপদ, সস্তা, প্রয়োগ করা সহজ এবং ব্যাপক সহজলভ্য। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে বছরে ১শ কোটি ডোজ উৎপাদন এবং ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞানীদের এই দলে রয়েছেন এইচআইভির আবিষ্কারক এক বিজ্ঞানী এবং মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) একজন ভ্যাক্সিন বিশেষজ্ঞ। বহুল আকাঙ্খিত এই ভ্যাক্সিন বিশ্ব থেকে পোলিওকে প্রায় নি’র্মুল করতে সক্ষম হয়েছে।

ভ্যাক্সিন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলছেন, পোলিও ভাইরাসের দুর্বলতম সংস্করণ ব্যবহার করে ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়েছে। ক্ষুদ্র এই ভ্যাক্সিন শরীরে শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। পোলিও ভ্যাক্সিন আধুনিক ভ্যাক্সিনগুলোর চেয়ে ধীরগতির। এতে ভাইরাসের জিনগত উপাদান ব্যবহার করা হয়।

অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অন্যান্য অঞ্চলের বিজ্ঞানীরা অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন। এফডিএর ভ্যাক্সিন বিশেষজ্ঞ কনস্ট্যান্টিন চুমাকোভ এবং ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ডের ইন্সটিটিউট অফ হিউম্যান ভাইরোলজির অধ্যাপক রবার্ট গ্যালো বলেছেন, করোনা ভাইরাসের বিরু’দ্ধে ল’ড়াইয়ে এটি কাজ করবে কি না তা জানতে অন্তত একটি পরীক্ষা চালানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

তারা বলেছেন, আমরা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ বা প্রশমনে ওরাল পোলিও ভাইরাস ভ্যাক্সিন ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছি। পোলিও ভাইরাস এবং করোনা ভাইরাস পজেটিভ আরএনএ ভাইরাস গোত্রের। সাধারণ সহজাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা এ ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা যেতে পারে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম হেলথ সায়েন্স সেন্টারের অধ্যাপক জেফ্রি ডি সাইরিলো বলেছেন, এটিই বিশ্বের একমাত্র ভ্যাক্সিন যা এখনই করোনা ভাইরাসের বিরু’দ্ধে ল’ড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের বিশ্বাস এটি কাজ দেবে।

এই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন হার্ড ইফেক্ট তৈরি করে। কোনও সং’ক্রামক ব্যাধিতে যখন কোনও জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশই পৌঁছায়, তখন হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। এটি হতে পারে ওই সং’ক্রামক ব্যাধিতে আক্রা’ন্ত এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অথবা ভ্যাক্সিন প্রয়োগের মাধ্যমে। তারা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের রোগীদের শরীরে পোলিও ভ্যাক্সিন প্রয়োগে ঝুঁ’কির সম্ভাবনা একেবারে কম।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আফ্রিকায় যখন কমিউনিটিগুলোর মধ্যে হামের টিকা দেয়া শুরু হয়, তখন এই রোগে শিশুদের মৃ’ত্যুহার ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে আসে। যা হামে মৃ’ত্যুর ক্ষেত্রে সুরক্ষার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।

মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিনের এখন লাইসেন্স নেই এবং সহজলভ্য নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাক্সিনটি এখনও দেয়া হয়। শিশুরা ভ্যাক্সিনটির ডোজ মুখে নেয়।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৪ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারালেও এর কোনও কার্যকর ভ্যাক্সিন কিংবা প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক ভ্যাক্সিন তৈরির প্রকল্প চালু রয়েছে। তবে ভ্যাক্সিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে প্রায় এক ডজন কোম্পানি।

এর মধ্যে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি মডার্না বৃহস্পতিবার করোনা ভ্যাক্সিনের শেষ ধাপের পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন এই জায়ান্ট কোম্পানি আগামী মাসে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে ভ্যাক্সিনটির চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে ইতিমধ্যে।

শেয়ার করুন !
  • 61
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply