মশার লালা থেকে ভ্যাক্সিন, ঠেকাবে যে কোনও ভাইরাস!

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন গবেষকরা। অনেক ক্ষেত্রে আশার আলো দেখা গেলেও এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী কোনও ভ্যাক্সিনের সন্ধান মেলেনি।

এর মধ্যেই এমন এক ভ্যাক্সিন তৈরির কথা শোনালেন মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানী ও সং’ক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জেসিকা ম্যানিং, যা যে কোনও সং’ক্রামক ব্যধি বা মহামা’রীর প্র’কোপ রুখে দিতে পারবে।

৫ বছর আগে নিজের অফিস বিল্ডিংয়ের বাইরে দৈত্যকায় মশার মডেল থেকেই মাথায় এসেছিল আইডিয়াটা। এরপর বছরের পর বছর কেটেছে মাথায় আসা সেই চিন্তা বাস্তবে রূপ দিতে।

জেসিকা বলছেন, মশাবাহিত যেসব রোগ মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে, সেই রোগের জীবাণু দিয়েই তৈরি হচ্ছে ভ্যাক্সিন। বিস্তারিত ব্যাখায় এই নারী বিজ্ঞানীর দাবি, মশা থেকে যেসব জীবাণু বা প্যাথোজেন মানুষের শরীরে ঢোকে এবং ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, ইয়েলো ফিভার বা মেয়ারোর মতো ভাইরাসে রূপ নেয়, সেইসব প্যাথোজেন দিয়েই তিনি তৈরি করছেন এই ইউনিভার্সাল ভ্যাক্সিন। এই ভ্যাক্সিন শরীরে গিয়ে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, যা যে কোনও সং’ক্রমণ আটকাতে পারবে।

মশার লালা বা থুতুতে উপস্থিত প্রোটিনকেই কাজ লাগানো হবে এই ভ্যাক্সিনে। এই গবেষণা সফল হলে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, ইয়েলো ফিভার, পশ্চিম নাইল বা মেয়ারোর মতো ভাইরাস এবং যে কোনও সং’ক্রামক রোগকে প্রতিরোধ করা সক্ষম হবে বলে দাবি জেসিকার।

সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট জার্নালে জেসিকা ও তার সহকর্মীদের গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মশার লালা থেকে তৈরি এই ভ্যাক্সিন প্রথমবার মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। ৪৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির শরীরে এই ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে। দু’ভাবে এই ভ্যাক্সিনের ট্রায়াল হবে। প্রথমে দুটি ডোজে এই ভ্যাক্সিন দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ব্যক্তিকে মশার কামড় খাইয়ে দেখা হবে শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

মশার কামড়ের পর যদি দেখা যায় ব্যক্তির শরীরে কোনো সং’ক্রমণ ঘটেনি, তাহলে আরও কয়েকবার মশার কামড় দেওয়া হবে। তারপরও সুস্থ থাকলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধকারী শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম এই ভ্যাক্সিন। মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানী জেসিকা ম্যানিং ও তার টিমের দাবি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটাই হবে সব থেকে বড় আবিষ্কার।

এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মশাবাহিত সং’ক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কার্যকরী হলেও এই ইউনিভার্সাল ভ্যাক্সিন কি করোনার ক্ষেত্রেও কার্যকরী হবে? যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যাক্সিন নিয়ে আরও অনেক গবেষণা বাকি। হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ধাপে রয়েছে এটি। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধই এর মূল ফোকাস হলেও গবেষণার অনেক দিক খুলে দিয়েছে ম্যানিং ও তার টিম।

শেয়ার করুন !
  • 53
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!