ব্রেকিং: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলাহ আর নেই

0

সময় এখন ডেস্ক:

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুলাহ মা’রা গেলেন কিছুক্ষণ আগে। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃ’ত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ৪র্থ বার সরকার গঠন করার পর টেকনোক্র্যাট কোটায় বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

শেখ আবদুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কেকানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং মাতা মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি ২য়। তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম খাদেমুল ইসলাম গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর সুলতানশাহী কেকানিয়া প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ১৯৬১ সালে একই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি.কম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম.কম. এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতি বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

আবদুল্লাহ ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং সে সময় যুবলীগে যোগদান করে গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅ’ভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের সাধরণ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যু’দ্ধ শুরু হলে তিনি মুজিব বাহিনীতে যোগদান করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর তিনি গোপালগঞ্জ জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আবদুল্লাহ কর্মজীবনের শুরুতে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকি হিসেবে যোগদান করেন। পরে গোপালগঞ্জ ও ঢাকা জজকোর্টে ওকালতি পেশায় জড়িত হন। প্রথমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য ও পরবর্তিতে উক্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।

নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ। কওমি সনদের স্বীকৃতি নিয়েও তার কাজের প্রশংসা করেছে আলেম সমাজ।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তার মন্ত্রণালয়ের সর্বক্ষেত্রে। তার সঙ্গে সর্বসাধারণের উন্মুক্ত যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে খুলেছিলেন ফেসবুক পেজ ও টুইটার অ্যাকাউন্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য এবং যে কোনো সেবা ও পরামর্শের জন্য ই-মেইল ও ফোন নম্বরও উন্মুক্ত করেন তিনি।

দায়িত্ব নেয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইপত্রের ডিজিটাল কপি প্রস্তুত করার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করার প্রক্রিয়া চালু হয় তার সময়েই। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ইতিপূর্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কেউই ডিজিটাল ছিলেন না। ডিজিটাল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শেখ আব্দুল্লাহই ছিলেন প্রথম।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দুনীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যার প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনেক অ’নিয়ম দূর করতে সক্ষম হন।

যোগদানের পর গত বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া যাত্রী প্রতি ১০ হাজার টাকা কমিয়েছেন। এর আগে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা থাকলেও গতবার ১ লাখ ২৮ হাজার টাকায় আনতে সক্ষম হন তিনি। এছাড়া বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের বি’বাদ নি’ষ্পত্তি করে শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় তার উদ্যোগেই।

শেয়ার করুন !
  • 268
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!