কামরানকে শেষবার ১ মিনিটের জন্য হলেও সিসিকে আনা হয়: মেয়র আরিফ

0

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃ’ত্যুতে শোকাহত বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পূর্বসূরীর মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছেন আরিফ।

সবশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এর আগের নির্বাচনেও কামরানকে হারান আরিফ।

বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের স্মরণে সিটি কর্পোরেশন ভবনে একটি শোক বই খোলা হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন সিলেটের মেয়র ছিলেন। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ১ মিনিটের জন্য হলেও তার ডেডবডি যদি সিটি কর্পোরেশনে নেয়া সম্ভব হয়। অবশ্য এই পরিস্থিতিতে তা কতটা সম্ভব আমি জানি না।

করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে রোববার দিবাগত রাত ৩ টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন সিলেটের সবার প্রিয় রাজনীতিবিদ বদরউদ্দিন কামরান। তার মৃ’ত্যুতে সিলেটে নক্ষত্রের পত’ন হল। মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘ সময়কার মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। সিলেটের জনগণ বারবার তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শহর, নগর ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন দীর্ঘদিন।

সদা হাস্যোজ্জ্বল কামরান মাথায় সাদা টুপি পরতেন, মুখে কালো গোঁফ। চোখে সাদা চশমা পরা লোকটি ছিলেন সিলেটের মানুষের নয়নমণি। ধীরস্থির প্রকৃতির কামরান সর্বদা মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি ছিলেন নগরবাসীর বিপদের আশ্রয়স্থল। এ কারণে ১/১১’র সময় জেলে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হন।

বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেট পাইলট স্কুলে ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি কামরানের। ছাত্রাবস্থায় ১৯৬৯- এর গণঅভ্যু’ত্থানের সময় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ কাঁপিয়েছেন। এরপর ৭৩-এ সিলেট পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন কামরান। তখন তিনি মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। সিসিকে আজ পর্যন্ত এত অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি হতে পারেনি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র, এরপর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।

১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মহানগর গঠিত হলে ২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৫ এ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান।

টানা তিন মেয়াদে দেড় যুগ মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তবে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতির পদ ছেড়ে দেন কামরান। প্রায় তিন দশক কামরানবিহীন পথচলা শুরু হয় সিলেট আওয়ামী লীগের। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান বর্তমান কমিটিতেও একই পদে ছিলেন।

এদিকে রাজনীতিবিদ কামরান জনপ্রতিনিধি হিসেবেও ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। ১৯৭৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান জনতার কামরান। সেই থেকে সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন তিনি।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরেই ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান। ২০০৩ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।

১/১১’র সময়ে ২ বার জেলে যান কামরান। ২০০৮ সালে সেখানে থেকেই নির্বাচন করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ দুটি সিটি নিবার্চনে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন কামরান।

শেয়ার করুন !
  • 232
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!