যেভাবে মনোবল বাড়িয়ে শুধু করোনা নয়, দূরে রাখবেন অন্যান্য অসুখও

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের কারণে দুশ্চিন্তা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে গিয়ে অন্যসব অসুখ ডেকে আনবেন না যেন! ইতিমধ্যেই নিশ্চয়ই জেনেছেন, করোনা ভাইরাস খুব শীঘ্রই বিদায় নিচ্ছে না। তাই ধরে রাখতে হবে মনোবল। মেনে এবং মানিয়ে নিতে হবে পরিস্থিতির সঙ্গে। কারণ দুশ্চিন্তা করলে তার হাত ধরে অন্যান্য অসুখ এসে উপস্থিত হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের আত’ঙ্কে বাড়তে পারে এই সমস্যাগুলো-

স্থুলতা: মানসিক চাপ বাড়লে অনেকেরই হাল ছেড়ে দেয়ার মতো মনোভাব হয়। তার প্রভাব পড়ে জীবনযাপনে। বাছবিচার না করে যা খুশি খেতে শুরু করেন। ব্যায়াম ছেড়ে দেন। ফলে ওজন বাড়ে। তার হাত ধরে হাই প্রেশার, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ, বাত ইত্যাদির আশ’ঙ্কা বাড়ে। রোগ থাকলে বাড়ে তার প্র’কোপ।

ডায়াবেটিস: এই অসুখ এত দিন হয়তো ছিল আয়ত্তের মধ্যে। কারণ সঠিক খাবার খেতেন, ব্যায়াম করতেন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতেন। করোনার ভ’য়ে সব বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ হল হাঁটাহাটি। শিকেয় উঠল খাওয়ার নিয়ম। সঙ্গে যোগ হলো তীব্র মানসিক চাপ। ফলে রোগের প্র’কোপ বাড়ার সব কারণই মজুত।

অনিদ্রা: মানসিক চাপের সঙ্গে যোগ আছে অনিদ্রার। এর সঙ্গে যোগ রয়েছে আবার খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগ কমার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতেও সিদ্ধহস্ত সে। ফলে যে রোগের চিন্তায় রাতের ঘুম লাটে উঠছে, সে রোগই হয়তো এসে উপস্থিত হবে।

বদহজম: মানসিক চাপ বাড়লে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বদহজম সব বাড়ে। নিয়ম মানা হয় না বলে আরও বাড়ে। টুকটাক হজমের ওষুধ খেয়ে চাপা দেয়ার চেষ্টায় তা বেড়ে যেতে পারে আরও।

ঋতুস্রাব: উদ্বেগের হাত ধরেই শুরু হতে পারে অ’নিয়মিত ঋতুস্রাব। মাসে একাধিকবার হওয়ার নেপথ্যেও টেনশন অন্যতম কারণ।

দুশ্চিন্তা করে যখন করোনাকে ঠেকাতে পারবেন না, তখন দুশ্চিন্তাকেই বরং ঠেকানোর চেষ্টা করুন। সঙ্গে ঠিক করুন জীবনযাপন। কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে সে কাজ অনেক সহজ হয়-

* জীবনযাপনের নতুন নিয়মগুলো মেনে নিন। যত তাড়াতাড়ি মানবেন, তত ভালো থাকবেন।
* রিল্যাক্সেশনের নতুন পথ খুঁজুন। সে বই পড়া হোক বা গান শোনা। ঘরে বসে সিনেমা দেখা বা হালকা ব্যায়াম করা। যোগাসন ও মেডিটেশনে মন হালকা হয়। কাজেই করে দেখতে পারেন।
* টিভিতে বা মোবাইলে হালকা অনুষ্ঠান দেখুন। হাসির অনুষ্ঠান দেখলে আরও ভালো।

* ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার ও ওবেসিটি থাকলে রোজ নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। এখন হঠাৎ জিমে ভর্তি হয়ে যাওয়াও যাবে না। প্রশিক্ষক রেখে ব্যায়াম করার উপায়ও নেই। এখন যা করতে হবে একা। মনকে সে ভাবে প্রস্তুত করে নিন। প্রয়োজনে ফোনে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন। ইউটিউবেও পাবেন অনেক কিছু।
* খাবারেও একটু রাশ টানুন। ডায়াবেটিস ও মেদবাহুল্য থাকলে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টিতে রাশ টানতে হবে। হাই প্রেশার থাকলে নোনতা খাবার ও ভাজাভুজিতে।

* ঘন ঘন চা-কফি-কোলা খেয়ে ঘুম ন’ষ্ট করবেন না। মন ভালো রাখার অর্ধেক কিন্তু লুকিয়ে আছে এই ঘুমের মাঝেই।
* বাইরে করোনা আছে ভেবে কোনো অ’স্বস্তি শুরু হলে চিকিৎসা না করিয়ে বসে থাকবেন না। ফোনে বা অনলাইনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন।

শেয়ার করুন !
  • 114
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!