এই করোনাকালে বোঝা যাচ্ছে, কারা জনগণের বন্ধু

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনার খুব সহজ কিছু তত্ত্ব রয়েছে। প্রথমত, আপনি যদি ঘরে থাকেন, ঘর থেকে যদি না বের হন তাহলে আপনার করোনায় আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা কম। ঘরে থেকেও আপনি আক্রা’ন্ত হতে পারেন যদি আপানার ঘরে বাহিরের অনাহুত কোন মানুষ প্রবেশ করে বা বাহিরে থেকে কেউ সং’ক্রমিত হয়ে যদি কেউ ঘরে দেয় তাহলে। সাধারণ তত্ত্ব হল যদি আপনি ঘরে থাকেন এবং সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেন, আপনার সাথে ড্রাইভার বা কাজের লোক বাহিরে না যায়, কারো সংস্পর্শে না আসে তাহলে আপনি করোনায় সং’ক্রমিত হবেন না।

সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী বিশ্বের সব দেশেই প্রায় দেখা গেছে আপনি যত মেলা মেশা করবেন, বাহিরে যাবেন তত বেশি আক্রা’ন্তর ঝুঁ’কি তৈরি হবে। করোনা সং’কটের সময় একটি দ্বিমাত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রথমত, আপনি নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখবেন? নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনাকে ঘরে থাকতে হবে ঘর থেকে বেরোনো যাবে না। যারা ঘর থেকে বেরোচ্ছেন তাদের থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে। আপনি আপনার পরিবারকে নিয়ে একবারে ঘর ব’ন্দি থাকলেন।

দ্বিতীয়ত, করোনায় যে অর্থনৈতিক সং’কট, বিশেষ করে গরীব মানুষের খাওয়া পড়ার টানাপোড়েন এটি একটি বড় সমস্যা। এই কারনে সরকার বিভিন্ন অর্থ, খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে, ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার ত্রাণ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা করোনা মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি দরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বিত্তবান জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামর্থ্যবান মানুষের সহায়তা।

এই সহজ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দেখা যাচ্ছে, করোনা বলে দিচ্ছে- কোন রাজনৈতিক দল জনগণের বন্ধু এবং কে বন্ধু নয়। করোনার এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এর ৩ জন মন্ত্রী আক্রা’ন্ত হয়েছেন, ৭ জন সংসদ সদস্য আক্রা’ন্ত হয়েছেন, এখন পর্যন্ত মা’রা গিয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী, একজন সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়াও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য করোনার আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেছেন। যারা মা’রা গেছেন তাদের যদি আমরা গতিবিধি বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো, করোনা সং’ক্রমণের সময় তাদের নির্বাচনী এলাকা অথবা ঢাকায় তারা জনগণের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন, জনগণকে সহায়তা করেছেন, জনগণকে ত্রাণ দিয়েছেন এবং জনগণের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কথা বলেছেন।

আবার বিপরীত চিত্রে দেখা যায়, বিএনপির কোন শীর্ষ নেতা করোনায় আক্রা’ন্ত হননি। বরং বিএনপির প্রধান অন্যতম নেতা মোর্শেদ খান করোনায় সং’ক্রমণের পর পরই চার্টার্ড বিমানে করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাহলে করোনার সময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করছে, জনগন ত্রাণ পাচ্ছে না, জনগণ সহায়তা পাচ্ছে না ইত্যাদি আহাজারি করছে। কিন্তু বিএনপির এখনো কোন নেতা আক্রা’ন্ত হল না কেন? করোনার তত্ত্ব অনুযায়ী তারা জনগণের সংস্পর্শে আসেনি, তাদের সঙ্গে মেশেনি। একমাত্র বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভিকে পিপিই পরে ১০-১২ জন মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। তাছাড়া বিএনপির আর কোন নেতাকে এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি। করোনায় ঘরব’ন্দি থাকা তারা ভালো করেই মানছেন।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝেমধ্যে গ্লাভস, পিপিইসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে সংবাদ সম্মেলন করছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে গা’লাগালি ছাড়া অন্য কোন কিছুই করছেন না। সর্বশেষ এসেছিলেন বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ত্রাণ সহায়তা করেছেন, অ’সহায় মানুষকে সাহায্য দিয়েছেন এইরকম কোন চিত্র দেখা যায়নি। ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন করোনার শুরু থেকেই নিজেকে ঘরব’ন্দি রেখেছেন, একই অবস্থা মির্জা আব্বাসেরও। তিনি মাঝে মাঝে বিবৃতি দেন। গয়েশর চন্দ্র রায়ের দেখা নেই।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে দেখা গেছে করোনার সময় তারা ত্রাণ কাজে সরাসরি তদারকি করছেন। অনেক জনপ্রতিনিধি তার এলাকায় পড়ে রয়েছেন, এলাকার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করছেন। সদ্য প্রয়াত মোহাম্মাদ নাসিম করোনা সং’ক্রমণের পর থেকেও চৌদ্দ দলের বৈঠক করেছেন। তার এলাকার জনগণের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য এলাকায় তদারকি করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রায় প্রত্যেক নেতাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হয় এলাকায় গেছেন অথবা এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই কারনেই আওয়ামী লীগের লোকজন অনেক বেশি আক্রা’ন্ত হচ্ছেন।

করোনা সং’ক্রমন একদম একটি গাণিতিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক একটি তত্ত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। আপনি জনগণের বন্ধু কি না তা প্রমাণ করবে আপনি করোনায় আক্রা’ন্ত হলেন কি না। করোনায় আক্রা’ন্ত হওয়া মানেই আপনি বাইরে গেছেন, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। আর রাজনীতিবিদরা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা মানেই তাদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া তাদেরকে সহযোগিতা করা। তাই করোনা সং’ক্রমণের হিসেবই বলে দেয় যে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আর বিএনপি নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থেকেছে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply