অর্থনৈতিক মন্দাতেও ৪টি কোম্পানির ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ম’ন্দায় প্রায় সব খাতের ব্যবসায় নে’তিবাচক প্রভাব পড়লেও হাতেগোনা কয়েকটি খাত ব্যতিক্রম, যার অন্যতম হলো ফার্মাসিউটিক্যালস খাত। অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী পণ্য হিসেবে এই সময়ে ওষুধের চাহিদা তো কমেইনি, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। এতে ব্যবসাও বেড়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ৪টি কোম্পানি- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড ও একমি ল্যাবরেটরিজ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ১২ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা বেশি।

এ খাতের শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৯ মাসে ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকার বিক্রি করেছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৭.৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে দেশের বাজারে ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার বিক্রির পাশাপাশি বিদেশে ১২৪ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪২ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১১.৪৭ শতাংশ।

জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান মো. কবীর রেজা বলেন, নভেল করোনা ভাইরাসের মতো এই সময়ে জরুরি সেবা হিসেবে আমাদের কার্যক্রম পুরোদমে চালু রয়েছে। এ কারণে আমাদের ব্যবসায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এপ্রিল ও মে এই ২ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০০ কোটি টাকার মতো কম বিক্রি হয়েছে। এ মাসে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুসারেই ব্যবসা হচ্ছে। ফলে বছর শেষে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করছি।

রেনাটা লিমিটেডের ৯ মাসে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে ২৫৪ কোটি টাকা চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ২৫৩ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।

রেনাটা লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মো. জোবায়ের আলম জানান, গত ৯ মাসে কোম্পানির ব্যবসা বাড়ার পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কোভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিনগুলোতেও কোম্পানির প্রবৃদ্ধি অ’ব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

একমি ল্যাবরেটরিজের ৯ মাসে ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে। যেখানে এর আগের বছরে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ১৫.৪৫ শতাংশ। আর এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১১৩ কোটি টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ১১৫ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১.৭৪ শতাংশ।

একমির কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কোভিড-১৯-এর কারণে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারগুলোতে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন না। এতে আমাদের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। অন্যদিকে কোভিড-১৯-এর প্রভাবে কিছু বিক্রি বেড়েছে। তাছাড়া বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভালো সাড়া ছিল। তবে প্রত্যাশার তুলনায় কম বিক্রির পাশাপাশি এ বছরের জানুয়ারিতে কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বাবদ কিছুটা ব্যয় বাড়ার কারণে গত ৯ মাসে আমাদের মুনাফা কিছুটা কমেছে। অবশ্য হিসাব বছর শেষে কোম্পানির ব্যবসা ও মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এসিআই লিমিটেড গত ৯ মাসে ৫ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার বিক্রি করেছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ১২ শতাংশ। ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও পরিচালন ও আর্থিক ব্যয় বাড়ার কারণে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ১২০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪১ কোটি টাকা। ১ বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে প্রায় ১৯৩ শতাংশ।

কোভিড-১৯-এর কারণে ২ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে দেশে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার। লেনদেন চালুর পর প্রথম সপ্তাহে পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের ৫৩ শতাংশই ছিল তাদের। দ্বিতীয় সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ যা ছিল ৪৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, একমি এসব কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ছিল। বণিকবার্তা

শেয়ার করুন !
  • 182
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply