মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কটূ’ক্তি, রাবি শিক্ষককে আ’লীগ থেকে বহি’ষ্কার

0

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে কটূ’ক্তি করার দায়ে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাজী জাহিদুর রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহি’ষ্কার করা হয়েছে।

কাজী জাহিদুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ দলের মুখপাত্র সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ একাধিক ত্যাগী ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে দুরভিস’ন্ধিমূলকভাবে কল্পনাপ্রসূত, কু’রুচিপূর্ণ ও মিথ্যা-বানোয়াট ক’টূক্তি করায় নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাজী জাহিদুর রহমানকে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি মোতাবেক সব দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হল।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে কাজী জাহিদুর রহমানের ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ড বা মন্তব্যের দায়ভার আওয়ামী লীগ কোনোক্রমে গ্রহণ করবে না।

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু কাজী জাহিদুরকে বহি’ষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগে এখন আংশিক কমিটি রয়েছে। তিনি (কাজী জাহিদুর) বিগত কমিটির পদে ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো পদ নেই। তবুও তার মন্তব্যে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ ক্ষু’ব্ধ। সে জন্য তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহি’ষ্কার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কাজী জাহিদুর রহমান বলেন, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনেক আগেই বিলু’প্ত হয়ে গেছে। সেখানে আমি নেই। তারা কীভাবে আমার পদ বাতিল করল তা জানা নেই। আর আমি আমার পোস্টে কারও নামে মন্তব্য করিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন রাতে মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ‘তার অসুস্থতা নিয়ে’ ব্যঙ্গ করে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান। সেই স্ট্যাটাসে সরাসরি মোহাম্মদ নাসিমের নাম উল্লেখ না থাকলেও স্পষ্ট তাকে ইঙ্গিত করে ‘বিষোদগার’ করার অভিযোগ ওঠে কাজী জাহিদুর রহমানের বিরু’দ্ধে।

সেখানে উ’গ্র ভাষা ব্যবহার করে জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিমকে তিনি পরামর্শ দেন- ‘করোনাকে ঘুষ দিয়ে মৃ’ত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আসার!’

পরদিন ২ জুন বিকালে ফের স্ট্যাটাস দেন কাজী জাহিদুর। সেখানেও নাম উল্লেখ না করে চিকিৎসা খাত নিয়ে সমালোচনা করেন। ‘তার আমলে’ শব্দের ব্যবহারে কৌশলে মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করেন। সেখানে ‘অসুস্থ নাসিমকে’ ইঙ্গিত করে অক্সিজেনের পরিবর্তে তাকে কার্বন ডাই অক্সাইড দেয়ার দাবি তোলেন তিনি।

‘কাজ করে না এমন ভেন্টিলেটর দিয়ে শ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক’ এমন বাক্যও লেখেন কাজী জাহিদুর। ওই স্ট্যাটাসে সবশেষে নাসিমকে ইঙ্গিত করে ‘এ সব চোর’ বলে সম্বোধন করা হয়।

ওই পোস্টগুলো প্রথমে সেভাবে সামনে না আসলেও মোহাম্মদ নাসিম মা’রা যাওয়ার পর এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোচ্চার হয়ে উঠেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষক কাজী জাহিদুরের সাজার দাবিও তোলেন তারা।

শেয়ার করুন !
  • 186
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!