‘একটা কিডনি রেখে করোনা টেস্ট করাই দিয়েন’

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

‘একটা কিডনি রেখে দিয়ে করোনার টেস্ট করাই দিয়েন। ৩/৪ মাস ধরে কামাই বন্ধ।’ বেসরকারি হাসপাতালের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বাড়তি ফি নিয়ে এভাবে ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসান নীল নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তরুণ।

সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান- ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানেই একমাত্র করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকার সাড়ে ৩ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছ থেকে স্যাম্পল কালেকশন ফি হিসেবে আরও ২০০ টাকা করে নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সবকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু জেলায় সরকারি পিসিআর ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহের পর ঢাকায় পাঠানো হয়। আর ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে সময় লাগে ৫-৭ দিন।

এ অবস্থায় জেলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় একমাত্র এবং প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমতি পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এরপর গত ১১ জুন পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারের বেঁধে দেয়া ফি অনুযায়ী সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার কথা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছ থেকে নিচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

বুধবার (১৭ জুন) মো. সোহেল নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক কর্মচারী করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফি ও নমুনা সংগ্রহের সময়সূচি জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ‘উইশ ফর বেটার ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে করা সোহেলের ওই পোস্টে বলা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ১৭ জুন থেকে করোনার নমুনা নেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা দুই ঘণ্টা নমুনা নেয়া হবে এবং একদিন পর রিপোর্ট দেয়া হবে। ফি ৩৫০০+২০০ (কালেকশন ফি) মোট ৩৭০০ টাকা।

বাড়তি ফি আদায়ের বিষয়ে ক্ষো’ভ প্রকাশ করে সোহেলের ওই পোস্টে নাঈম হাসান নীল নামের এক তরুণ মন্তব্য করেছেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, একটা কিডনি রেখে দিয়ে করোনার টেস্ট করাই দিয়েন। তিন চার মাস ধরে কামাই বন্ধ।’

আতিকুল ইসলাম রিগান নামে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘ধান্দাবাজ সব, এখন করোনা নিয়েও ধান্দা শুরু করছে সবগুলা। ৩৭০০ টাকা দিয়ে করোনা টেস্ট মগের মুল্লুক, চোরের দল।’

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ বলেন, কালেকশন ফি তো আমি নিচ্ছি না, যারা প্যাথলজিস্ট তারা নিচ্ছে। যে প্যাথলজিস্ট জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে করোনা রোগীর শরীরে হাত দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে- তাদের প্রতি সবার মানবিক হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, মানুষের উপকারের জন্য আমি এতোগুলো টাকা খরচ করে ল্যাব স্থাপন করলাম। আমার লাভের দরকার নেই। আমি বলেছি সরকার যদি কিট সরবরাহ করে তাহলে বিনা পয়সায় শুধু কালেকশন চার্জ রেখে পরীক্ষা করব।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!