নৌবাহিনীর কর্ভেট বানৌজা ‘সংগ্রাম’-এর কমিশনিং করলেন প্রধানমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নৌবহরে সংযোজিত হলো নতুন কর্ভেট ক্লাস যু’দ্ধজাহাজ বানৌজা ‘সংগ্রাম’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে নৌ ঘাঁটিতে বানৌজা সংগ্রাম এর কমিশনিং অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে জাহাজটি কমিশনিং করেন তিনি।

কমিশনিং শেষে জাহাজটি আগামী ৯ জুলাই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে লেবাননের উদ্দেশে যাত্রা করবে। লেবানন উপকূলে ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে উপমহাদেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যু’দ্ধজাহাজই বিশ্বশান্তির দূত হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। নতুন এ যু’দ্ধজাহাজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে জাহাজের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এফ এম আরিফুর রহমান ভূঁইয়ার হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন। এর মধ্য দিয়ে যু’দ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করল।

কমিশনিং ফরমান তুলে দেওয়ার পূর্বে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কমিশনিং ফরমান তুলে দেওয়ার জন্য নৌবাহিনী প্রধানকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আসলে একটা অ’স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে এই অনুষ্ঠানটা। এরপরও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি এখন নৌবাহিনী প্রধানকে অনুরোধ করবো তাকে কমিশনিং ফরমান যথাযথভাবে হস্তান্তর করুন।’ এরপর নৌবাহিনীর প্রধান বানৌজা সংগ্রামের ক্যাপ্টেন এফ এম আরিফুর রহমানের নিকট কমিশনিং হস্তান্তর করেন।

কমিশনিং হস্তান্তর শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা করেন মাওলানা এস এম মাহবুবুর রহমান।

বানৌজা সংগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:

নকশা

জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ৯০ মিটার (৩০০ ফু) লম্বা এবং ওজন ১ হাজার ৩৩০ টন। জাহাজটিতে জার্মানির তৈরি ২টি এসইএমটি পিয়েলস্টিক ১২পিএ৬ ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে যার সাহায্যে এটি সর্ব্বোচ্চ ২৫ নট (৪৬ কি.মি/ঘ; ২৯ মা/ঘ) গতিবেগে চলতে সক্ষম। জাহাজটিতে সামনে ও পেছনে ২টি আলাদা পাওয়ার জেনারেটিং সিস্টেম রয়েছে। যাতে একটি অ’কার্যকর হয়ে পড়লেও অন্যটির সাহায্যে জাহাজটি কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। চিরাচরিত গোলাকার সম্মুখভাগের পরিবর্তে জাহাজটিকে ভি-আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে যাতে উত্তাল সমূদ্রেও দ্রুতগতিতে চলতে পারে। কিন্তু জাহাজটিতে কোন সোনার সিস্টেম না থাকায় এর এন্টি-সাবমেরিন অপারেশন পরিচালনার শক্তি সীমিত। বানৌজা সংগ্রামে একটি হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক রয়েছে যেখানে একটি মধ্যম আকৃতির হেলিকপ্টার ওঠানামা করতে পারে তবে এতে কোন হ্যাঙ্গার নেই।

ইলেক্ট্রনিক্স

জাহাজটি সমুদ্রপৃষ্ঠ ও আকাশে অনুসন্ধানের জন্য চীনের তৈরি এসআর২৪১০সি এস-ব্যান্ড ৩ডি এইএসএ রাডার ব্যাবহার করে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার উড্ডয়ন ও অবতরণ নিয়ন্ত্রণ এবং গোলাব’র্ষণ নিয়ন্ত্রণের জন্যও এই রাডার ব্যাবহার করা যায়। এই রাডারটি ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মা) দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে এবং একসঙ্গে ১৫০টি লক্ষ্যবস্তুকে অনুসরণ করতে পারে।

অ’স্ত্রসজ্জা

জাহাজটিতে একটি এইচ/পিজে-২৬ ৭৬ মি.মি কামান রয়েছে যা জাহাজের সম্মুখভাগে বসানো হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠে থাকা যে কোনো হুম’কি মোকাবেলা করার জন্য রয়েছে ৪টি সি-৮০২এ জাহাজবিধ্বং’সী ক্ষেপণা’স্ত্র। জাহাজটির নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য রয়েছে ২টি এইচ/পিজে-১৭ মডেলের ৩০ মি.মি দূর-নিয়ন্ত্রিত কামান। আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য রয়েছে ৮টি এফএল-৩০০০এন বিমান বিধ্বং’সী ক্ষেপণা.স্ত্র। জাহাজটিতে ২টি ৬-টিউব বিশিষ্ট টাইপ-৮৭ এন্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চারও রয়েছে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!