প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সরানো হয়নি সেই ডা. ইকবালকে!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ সত্ত্বেও এখনো সরিয়ে দেওয়া হয়নি বহুল বিত’র্কিত সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপি সমর্থক চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব এর নেতা ডা. ইকবাল কবীরকে। তিনি এখনো একসঙ্গে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

পড়ুন: বালিশকাণ্ডকে হার মানানো স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির নথি: নেপথ্যে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতা

ডা. ইকবাল কবীরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল করোনা মোকাবেলার সমস্ত দায়িত্ব। আর সেই ড্যাব নেতাই করোনা মোকাবেলায় নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করছেন। যে কেনাকাটাগুলো ‘বালিশকাণ্ড’ -কেও হার মানিয়ে দিয়েছে। শুধু পিপিই বা অন্যান্য সামগ্রী নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশে সফটওয়্যার কিনতে তিনি যে মূল্য প্রাক্কলন করেছেন, তা ভ’য়াবহ।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ৪টি ওয়েবসাইট উন্নয়নের খরচের জন্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি ডাটাবেজ তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৫টি সফটওয়্যারের জন্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। এছাড়াও অন্যান্য যে খরচগুলো ধরা হয়েছে, তা আরেকটি নতুন ‘বালিশকাণ্ড’র মতো ঘটনা।

অবাক করা ব্যাপার হলো, যাকে এই করোনা মোকাবেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি একসঙ্গে ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দক্ষ লোকের এতই অভাব যে, একজন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ডা. মো. ইকবাল কবীর এখন ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমত তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে কাজ করছেন। তারপর তিনি লাইন ডিরেক্টর (পরিকল্পনা) পদেও রয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইমার্জেন্সি কোভিড রেসপন্স প্রকল্পে তাকে প্রকল্প প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্পটি ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৮৫০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কেনাকাটায় যে মূল্য ধরা হয়েছে তা ‘বালিশকাণ্ড’কেও লজ্জায় ফেলবে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, ডা. মো. ইকবাল কবীরকে এডিবির অর্থ সহায়তায় ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্ট অন কোভিড-১৯’ এর প্রকল্প প্রধানও করা হয়েছে। এটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এখানে এডিবির ৮৫০ কোটি টাকার অর্থায়ন রয়েছে। এছাড়া বাকি অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।

এসব প্রকল্পের কেনাকাটায় যে মূল্য ধরা হয়েছে তা সেই ‘বালিশকাণ্ড’ -কেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং সিএমএসডি নব নিযুক্ত পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামানসহ নিজ কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন। এই বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রশ্ন করেন কে এই ইকবাল কবীর? তাকে কেন ৪ পদে রাখা হয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তিনি এ ব্যপারে কিছু জানেন না। প্রধানমন্ত্রী অ’সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা জানেন না কেন?

অতঃপর তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশের পরও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ডা. ইকবাল কবীর ৪টি পদেই বহাল আছেন।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!