ত্রাণের নামে বিএনপির ওপর চাঁদা’বাজির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা আছেন অনিশ্চয়তার মুখে। তারা কীভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখবেন, কীভাবে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবেন এই নিয়ে ঘুম নেই তাদের। কিন্তু এর মধ্যেই বিএনপির নেতৃবৃন্দের টেলিফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আত’ঙ্ক তৈরি করেছে!

একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, বিএনপির একাধিক নেতা এবং লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গরীব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে এই অজুহাতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলের কাছে চাঁদা বা সহায়তা দাবি করছেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অ’সন্তোষ ও অ’স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা সং’কটের পর থেকেই বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা ও তাদের জীবিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ সময়ে সরকার গরীব মানুষদের করোনা সং’কট থাকাকালীন সময় পর্যন্ত সহায়তা অ’ব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং সেইভাবেই কাজ করছে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা অব্যহত রেখেছে।

অন্যদিকে বিএনপির একমাত্র রুহুল কবির রিজভী ঢাকা শহরের ক’দিন বাদে বাদে একশ-দেড়শ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং মিডিয়াতে তা ফলাও করে প্রচার করছেন। এই বাস্তবতায় বিএনপির একাধিক নেতা বিএনপির উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে ব্যবসায়ীদের কাছে জানিয়েছেন। এজন্য তারা সহায়তা দাবি করেছেন।

চকবাজারের একজন কাঁচামালের ব্যবসায়ীর কাছে বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য ফোন করে বিএনপির ত্রাণ তৎপরতা অ’ব্যাহত রাখার জন্য বড় অংকের টাকা দাবি করেন। ওই ব্যবসায়ী নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যকে জানান, এখন ব্যবসায়ীরাই নানা সং’কটে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা টাকা দিবে কীভাবে। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সেই সদস্য রাজনৈতিক ব্যাপারে তাকে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন।

এদিকে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ত্রাণ তৎপরতায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এজন্য তিনি অর্ধকোটি টাকা অনুদানের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই ব্যাংক চেয়ারম্যান জবাবে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সারাদেশে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে, কিন্তু কেউই এখানে এসে কোনো ব্যবসায়ীর কাছে চাল, ডাল, তেল, লবণ ইত্যাদি কোনো কিছুর জন্য সাহায্য দাবি করেনি। অথচ বিএনপির মহানগরের কয়েকজন নেতা ত্রাণ বিতরণের আগেই এখানে এসে বেশ কিছু পণ্য বিনামূল্যে দেয়ার জন্য বলে গেছে। আমরা এ নিয়ে বেশ শ’ঙ্কিত।

অনলাইন পোর্টাল বাংলাইনসাইডার জানিয়েছে, বিএনপির অন্তত ৫ জন নেতা ২৫ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ফোন করেছেন। ফোন করে বিএনপির ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচীতে সাহায্য করার অনুরোধ করেছেন।

একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিএনপি যদি অ’সহায়দের পাশে দাঁড়াতে যায় তাহলে সেটা ভালো কথা, কিন্তু আমাদের টাকা দিয়ে কেন? আমরা যদি টাকা খরচ করি তাহলে সেটা আমরাই সরাসরি করতে পারি এবং করছি। বিএনপিকে টাকা দিয়ে আমাদের ত্রাণ সহায়তা কেন করতে হবে?

এখন বিএনপির নেতৃবৃন্দদের এড়িয়ে চলা শুরু করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। বিএনপি নেতৃবৃন্দের ফোন রিসিভ করতেও তারা এখন ইতস্তত বোধ করছেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিএনপির অনেক নেতাই ধনাঢ্য এবং বিপুল সম্পদের মালিক। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু অত্যন্ত সম্পদশালী। তিনি এফবিসিসিআই-এর সভাপতি ছিলেন। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখের ব্যবসাও কম নয়।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপির নেতাদের অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। তবুও তারা অন্যের টাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে চান কেন- এ নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ ব্যবসায়ীদের। বিএনপির এই নতুন চাঁদা’বাজি তত্ত্ব তাদের আত’ঙ্কিত করেছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, বিএনপি এই টাকা গরীবদের জন্য খরচ করবে যতটা, তারচেয়ে বেশি চলে যাবে লন্ডনে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 123
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!