স্বাস্থ্য-ডিজির কাণ্ডজ্ঞানহীনতা দেখে ভীষণ চটেছেন ওবায়দুল কাদের

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আরও ২-৩ বছর চলতে পারে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে ভীষণ চটেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের আয়ুষ্কাল নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অ’দূরদর্শী ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য মানুষকে হতা’শ করেছে। স্পর্শ-কাতর এ সময় দায়িত্বশীল পদে থেকে কারও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখা মোটেও সমীচীন নয়।

ওবায়দুল কাদের এ সময় এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বলেছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হবে না। এটি ২-৩ বছর ধরে চলতে পারে, যদিও সং’ক্রমণের মাত্রা একই হারে নাও থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিজির এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার যখন দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য নিয়মিত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, করোনাযো’দ্ধাদের প্রতিনিয়ত সাহস দিচ্ছেন, তখন স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কোনও কোনও কর্মকর্তার করোনার আয়ুষ্কাল নিয়ে অ’দূরদর্শী ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য জনমনে হতা’শা তৈরি করছে। আমি এ ধরনের সমন্বয়হীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে সবাইকে বিরত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। স্পর্শ-কাতর এ সময় দায়িত্বশীল পদে থেকে কারও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখা মোটেও সমীচীন নয়।

খুলনায় চিকিৎসক হ’ত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ সং’কটে ফ্রন্টলাইনারদের অনেকেই নিজেকে দেশ ও জাতির সেবায় উৎসর্গ করেছেন। এ পর্যন্ত ৪২ জন চিকিৎসক, ২৬ জন পুলিশসহ নার্স, টেকনিশিয়ান, সাংবাদিক, আনসার সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে খুলনায় একজন চিকিৎসক হ’ত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনা’কাঙ্ক্ষিত। আমি এর তীব্র নি’ন্দা এবং নিহ’তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। সব সম্মুখযো’দ্ধাকে আমি ধৈর্য্য ধারনের আহ্বান জানাচ্ছি। মনে করিয়ে দিতে চাই, শেখ হাসিনার সরকার অ’ন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না, যতই ক্ষমতাবান হোক তার রেহাই নেই।

প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সং’ক্রমণের বর্তমান পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের আশার শেষ ঠিকানা চেতনার বাতিঘর শেখ হাসিনা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করছেন। তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতাকর্মীরা অতীতের মতো সাহসী ও মানবিক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

এলাকাভিত্তিক লকডাউনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্তের পরপরই দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে সুসমন্বয়। সঠিক সমন্বয় সাধন সম্ভব হলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিবিড় মনিটরিং এবং পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শক্তিশালী টিমওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

লকডাউন এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, এখন যেসব এলাকা লকডাউন করা হবে সেসব এলাকার জনসাধারণকে বুঝতে ও পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিদিন ক্রমবর্ধমান এই সং’ক্রমণ পরিস্থিতিতে আমাদের হতা’শ হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এ সং’কট কাটিয়ে উঠবো, ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন !
  • 657
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!