‘ষাটোর্ধ্বদের সেলফ আইসোলেশনে যাওয়ার বিকল্প নেই’

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিকল্প নির্বাহী পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, বাংলাদেশে যে করোনা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে প্রবীণদের নিয়ে আমি শ’ঙ্কিত। একের পর এক জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা চলে যাচ্ছেন। আজ চলে গেলেন কামাল লোহানী। প্রবীণদের এই সং’কটাপন্ন অবস্থা জাতিকে ব্যাথিত করছে, উদ্বিগ্ন করছে।

অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী বলেন, এই কারণে আমি অনুরোধ করতে চাই, যারা ষাট বা ততোর্ধ্ব বয়সের, তারা নিজ উদ্যোগে আইসোলেশনে চলে যান। এবং তা যেন প্রকৃত এবং পূর্ণাঙ্গ আইসোলেশন হয় সেটা নিশ্চিত করুন।

তিনি বলেন, অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নিজে বাইরে না গেলেও বাসার যে গৃহকর্মী, তিনি বাইরে যাচ্ছেন। তার থেকে ঘরের মানুষজন আক্রা’ন্ত হচ্ছেন। গাড়ির ড্রাইভারের দ্বারাও কেউ কেউ আক্রা’ন্ত হচ্ছেন। কাজেই সেলফ আইসোলেশন মানে পরিপূর্ণভাবে আইসোলেশনে থাকতে হবে। অর্থাৎ তিনি তার ঘরে থাকবেন, ঘর থেকে তিনি বের হবেন না, তাকে যে খাবারগুলো দেওয়া হবে, নিশ্চিত করে নিতে হবে তা জীবাণুমুক্ত হয়েছে কি না। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রয়োজন হলে তিনি নিজে যাবেন না, অন্যকে দিয়ে তোলাবেন। যে কোন মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকবেন, এমনকি নিজের ঘরের মানুষদের সংস্পর্শ থেকেও।

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সঠিক নির্দেশনাই দিচ্ছেন। তিনি ভ্যাক্সিন পাওয়ার ওপরেই সর্বাধিক গুরত্ব দিয়েছেন। আমি মনে করি, ভ্যাক্সিন ছাড়া করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই। এখন বিশ্বের অনেকগুলো দেশ ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের কাজ করছে। খুব সহসাই ভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে ভ্যাক্সিনের দিকে নজর দিতে হবে। এমন যেন না হয়, ভ্যাক্সিন বাজারে এলো, আমরা হাহাকার করলাম, এটা হবে অ’মার্জনীয়। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কারা ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ করছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ করতে পারি; এমন একটা অবস্থা নিশ্চিত করতে পারি, ভ্যাক্সিন এলেই যেন সেটা আমরা হাতে পাই। এটা খুবই সম্ভব। কারণ বাংলাদেশের অনেক কোম্পানীই ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ করে, আর এই ব্যাপারে আমাদের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের।

এই গুণী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমাদের যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলে হচ্ছে, তার সঙ্গে আমি কিছু বিষয় যুক্ত করতে চাই। বিশেষ করে তরুণদের জন্য, যারা বিভিন্ন সময় ঘর থেকে বের হচ্ছেন। আমরা শুধু মাস্ক পরার কথা বলছি। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন দাঁত মাজার পর মাউথওয়াশ দিয়ে গার্গল করি, তাহলে আমাদের সং’ক্রমণের ঝুঁ’কি অনেকটা কমে যায়। এটা দিনে কয়েকবার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি না খাই, তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা বাইরে যাচ্ছেন তারা যেন অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে মাস্ক পরে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, পরিষ্কার থাকা, বাইরে থেকে এসে গোসল করা, নিয়মিত হাত ধোয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোর দিকে আরো যত্নশীল হতে হবে।

ডা. মোদাচ্ছের বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং সচেতনতাই পারে করোনা মোকাবেলা করতে। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতা, পারসোনাল হাইজিন করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমরা সুরক্ষিত থাকতে পারবো এবং প্রবীণদেরকে ঘরে রেখে সুরক্ষিত রাখতে পারবো। ভ্যাক্সিন আসা পর্যন্ত এভাবেই আমাদের করোনার সঙ্গে ল’ড়তে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 131
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!