ব্যবহৃত পিপিই থেকে রোগ ছড়াচ্ছে: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী যত্রতত্র পড়ে থাকার ফলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেগুলোকে পুড়িয়ে না ফেলার কারণে ঝুঁ’কি বাড়ছে। এ সমস্ত ব্যবহৃত, ন’ষ্ট, সুরক্ষা সামগ্রী যেখানে সেখানে পড়ে থাকা বা ফেলে দেয়ার কারনে কারণে রোগ ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে এখন আমাদের কিছু কিছু সুরক্ষা সামগ্রী জরুরী হয়ে পড়েছে। এগুলো প্রতিদিনের জীবন যাপনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। যারা ঘর থেকে বেরুচ্ছেন, তারা প্রতিদিন মাস্ক ব্যবহার করছেন, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই মাস্ক এবং গ্লাভসগুলো ব্যবহারের পর এটি যদি আপনি যথাযথভাবে পুড়িয়ে না ফেলেন বা ডিসপোজ না করেন, তাহলে এটা থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁ’কি থাকবে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, মাস্কগুলো ব্যবহারের পরে যেখানে সেখানে ফেলে দেবেন না। বরং এই মাস্কগুলোকে পুড়িয়ে ফেলুন অথবা এমনভাবে রাখুন যেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এটিকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তবে পুড়িয়ে ফেলাই সবচেয়ে ভালো।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, সাধারণ মানুষ তার বাসাবাড়িতে এটা যেন বহন করে না নিয়ে যান। বাসা বাড়িত নিয়ে গেলে সেটি যেন দ্রুত পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এছাড়াও আমরা দেখছি, ডাক্তার-নার্সরা গ্লাভস, মাস্ক, টুপি, ফেসশিল্ড, জুতার কভার ইত্যাদি নানাবিধ পিপিই ব্যবহার করছেন। এসব পরেই তারা করোনা রোগী বা অন্যান্য রোগীদের সংষ্পর্শে আসছেন। এসব সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে জীবাণু থাকছে। পরবর্তীতে এগুলো যদি যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়, যা আমি লক্ষ্য করছি- অনেক সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে যত্রতত্র এগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কিন্তু জীবানুটা থাকছে এবং সেখান থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উচিত এই সমস্ত ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপণা করা। সেটা যেন একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে সেটা যেন পুড়িয়ে ফেলা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালের ওয়েস্টেজ ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রেও এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, হাসপাতালে যে রোগীরা যাচ্ছে, তাদের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। রোগীরা যে চাদর ব্যবহার করছেন, সেই চাদরটি ধুয়ে ফেলা উচিত এবং সেখানেও তাকে যে সুরক্ষা সামগ্রীগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো যেন সঠিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয় বা ডিসপোজ করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি সঠিকভাবে পিপিই ডিসপোজকে ব্যবস্থাপনার আওতায় না আনি, তাহলে এটা আমাদের জন্য নতুন ঝুঁ’কির কারণ হবে এবং এখান থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ব’র্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি সিটি কর্পোরেশন দায়িত্বে রয়েছে। এখন এই করোনা সং’কটের সময় আমি মনে করি, আরো সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী বা সাধারণ মানুষের একটি সুরক্ষা সামগ্রীও যেন এদিক-ওদিক না পড়ে থাকে। পিপিই থেকে করোনা ছড়ালে পরিস্থিতি হবে আরও ভ’য়াবহ। তাই এই ব্যাপারে এখনই আমাদের নজর দিতে হবে, সতকর্তা দিতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 537
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!