এবার অরুণাচল সীমান্তে চীনা রেলপথ, নতুন মাথাব্যথা ভারতের!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার ৩৮৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সীমানা রয়েছে চীনের। আর এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে চীনের স্থাপনা নির্মাণ অনেক পুরনো। এ নিয়ে ভারতের মাথাব্যথা হলেও কিছু করার নেই শক্তিশালী প্রতিবেশীর বিরু’দ্ধে। এবার চীন অধ্যুষিত তিব্বতে দ্রুত গতির ট্রেনের জন্য ট্র্যাক নির্মাণ করছে চীন। যা ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে ধারণা। এই রেলপথ তৈরি হলে তা ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষে যাবে। যা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই ভারতের।

জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যেই চীনের নিজস্ব একটি সংস্থা এই রেললাইন তৈরির কাজ অনেকটাই সেরে ফেলেছে। তৈরি হয়ে গেছে রেলব্রিজ। তিব্বতের ইয়ারলুং তাসানজোংপ এবং সিয়াং অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে এই রেলব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। তিব্বতের যেখান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ শুরু হয়েছে, সেখান থেকে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে এ নিয়ে দুইপক্ষের মাঝে উত্তে’জনা দেখা দিতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

ইতিপূর্বেও চীন গোটা অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে অরুণাচল প্রদেশে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সফরের তীব্র বিরো’ধিতা করেছিল চীন। এছাড়া ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে চীনের সীমান্ত বিবা’দ মেটাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ দফা বৈঠকও হয়ে গেছে দুই দেশের। তবুও চীন নিজেদের বক্তব্যে অ’টল।

এর মধ্যেই তিব্বত থেকে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত পর্যন্ত চীনা রেললাইন স্থাপন দুই দেশের মাঝে উত্তে’জনা তৈরি করছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

চীন অধ্যুষিত তিব্বত থেকে বিস্তৃত প্রায় ৪৩৫ কি.মি দীর্ঘ এই রেলপথ সংযুক্ত করবে দক্ষিণ তিব্বতের লাসাং, লিংঝি এবং নায়িংগেছি অঞ্চলগুলোকে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষা এই রেললাইনকে দ্বৈতভাবে ব্যবহার করতে চায় চীন। সীমান্ত এলাকার অনুন্নত সড়ক পথের বদলে রেলপথ ব্যবহার করতে চায় চীন। যা দেশটিকে সামরিক ও বেসামরিক উভয়দিকেই সুবিধা দেবে। এই প্রদেশকে চীন এখনও দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে আসছে।

তিব্বতের জাংমুং ইয়ারলুং থেকে তাসাংপো নদীর উপর তৈরি ডুয়েল লেনের এই ব্রিজের মোট দৈর্ঘ্য ৫২৫ কি.মি, যার উভয় দিক পর্বত বেষ্টিত।

গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ চীনা সংবাদ মাধ্যম জানায়, তিব্বত থেকে তৈরি রেললাইনের ৪৭টি টানেলের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি কাজ আগামী ২০২১ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করে ফেলা হবে। আর সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই দ্রুত গতিতে কাজও শুরু করে দিয়েছে চীন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই রেললাইনটি হবে তিব্বতের প্রথম ইলেকট্রিক রেলওয়ে। এখান থেকে ট্রেন চলবে প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কি.মি গতিবেগে। ২০১৪ সালের শেষ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক নিয়ে এই রেললাইন তৈরির কাজ চলছে।

এখন দেখার বিষয়, যেভাবে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারত-চীনের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে, তাতে নতুন এই রেলপথ দুই দেশের জন্য কী বার্তা বয়ে আনে।

শেয়ার করুন !
  • 210
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!