কয়েকদিনের মধ্যে জানা যাবে বাংলাদেশ করোনার পিকে আছে কি না

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে চীনা চিকিৎসক দল যে বক্তব্য দিয়েছে সেই বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। তবে বাংলাদেশে করোনার পিক সিজন শুরু হয়নি কি না সেটা বলার সময় এখনও হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগামী কয়েকদিন যদি আমরা দেখি যে একই রকম রয়েছে করোনা পরিস্থিতি, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা পিক সিজনে প্রবেশ করেছি। এরপর আস্তে আস্তে করোনা সং’ক্রমণ কমতে থাকবে। যেহেতু বাংলাদেশে করোনাণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, কাজেই আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে।

তিনি বলেন, চীনের চিকিৎসক দলের এই সফরে সবচেয়ে আশাপ্রদ দিক হলো ভ্যাক্সিন। আমাদের বুঝতে হবে, ভ্যাক্সিন পাওয়ার মাধ্যমেই আমরা করোনা সমস্যার বাস্তবোচিত, সঠিক এবং স্থায়ী সমাধান করতে পারি। অন্য কোনোভাবে নয়। অন্য যে সমাধানগুলো আছে, সেগুলো সাময়িক সমাধান। অত্যন্ত আশার কথা যে, চীন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে ভ্যাক্সিন আসার সাথে সাথে বাংলাদেশ এই ভ্যাক্সিনটা পাবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।

তবে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর মতে, টেস্ট বাড়ানোর জন্য আরটিপিসিআর ল্যাব একমাত্র পদ্ধতি হতে পারে না। এ ব্যাপারে তিনি চীনা চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝতে হবে। এখন নতুন করে আরটিপিসিআর ল্যাব বসানো সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা বাড়াতেই হবে।

তবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ টেস্ট বড়ানোর ব্যাপারে চীনা দলের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, আমাদের দেশে টেস্ট বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। যত বেশি টেস্ট বাড়ানো যাবে, তত আমরা বুঝতে পারবো যে আমরা কোনো পরিস্থিতিতে আছি। প্রয়োজনে আমাদের র‍্যাপিড টেস্টে যেতে হবে। বিভিন্ন দেশে এই র‍্যাপিড টেস্ট হচ্ছে, এতে সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত করোনা পরীক্ষা এবং করোনা সং’ক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশও র‍্যাপিড টেস্টে যেতে পারে।

ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন, বাংলাদেশে যে লকডাউন দেওয়া হয়েছিল সেটা সাধারণ মানুষ মানেনি। সাধারণ মানুষ ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা করেছে। তিনি চীনা চিকিৎসক দলের কিছু পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। আমাদের মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে। সাবান দিয়ে অবশ্যই হাত ধুতে হবে। আর কার্যকর লকডাউন যেহেতু হয়নি, সেজন্য এখন স্বাস্থ্যবিধি মানাটাই হলো এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আমাদের হাতে। আমরা যদি সচেতন না হই, আমরা যদি নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা না করি, তাহলে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমাদের কঠিন সময় পাড়ি দিতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!