বাংলাদেশি ও ভারতীয় রেমডিসিভির: দাম ও উৎপাদনে পার্থক্য কেমন?

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

অবশেষে করোনার ওষুধ রেমডিসিভির তৈরির অনুমতি পেল ভারতের হেটেরো ল্যাবস (Hetero Labs)। দেশটির ড্রাগ রেগুলেটর আমেরিকা ভিত্তিক গিলিয়াড সাইন্সেস-এর উদ্ভাবিত এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে হেটেরো ল্যাবস।

ভারতে এই ওষুধের নাম হবে কোভিফর (Covifor) এবং ধারণা করা হচ্ছে এর মূল্য ধরা হবে প্রতি ডোজ ৫ হাজার রুপি থেকে ৬ হাজার রুপির ভেতরে। ডলারের হিসাবে ৬৬ ডলার থেকে ৭৯ ডলার।

ভারতের আরেক ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি সিচলা লিমিটেডও অনুমতি পেয়েছে। গিলিয়াড সাইন্সেস গত মাসে ভারত ও পাকিস্থানের ৫টি কোম্পানির সাথে রেমডিসিভির তৈরির জন্য চুক্তি করে।

এই চুক্তির অধীনে Jubilant Life Sciences Ltd, Cipla, Hetero Labs, Mylan NV এবং Ferozsons Laboratories Ltd রেমডিসিভির উৎপাদন এবং বিশ্বের ১২৭টি দেশে বিক্রি করতে পারবে।

বাংলাদেশে দুটি কোম্পানি বিশ্বের সর্বপ্রথম রেমডিসিভির তৈরি করে। বেক্সিমকোর তৈরি বেমসিভির এর মূল্য ৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি ডোজ। ট্যাক্স বাদে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো প্রতি ডোজ ৪ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে পারবে। আর এই ওষুধ এসকেএফ তৈরি করেছে রেমিভির নামে।

ভারতীয় Covifor এর মূল্য বাংলাদেশি টাকায় সর্বনিম্ন ৫ হাজার ৮০০ টাকা হতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ ভারতের থেকে পিছিয়ে থাকলেও ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের সুনাম অনেক। বছরে বাংলাদেশ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করে।

এবার করোনার ভ্যাক্সিন তৈরিতে মাঠে নেমেছে জাপান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে করোনার সবচেয়ে ভ’য়াবহ সময় যাচ্ছে এখন, প্রচুর সং’ক্রমণ দেশে দেশে। এই মহামা’রীর হানায় স্থ’বির বিশ্ব। এর প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। দেশে দেশে চলছে ভ্যাক্সিন তৈরির জোর চেষ্টা। এবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে এবং জনগণকে দ্রুত ভ্যাক্সিন সুবিধা দিতে মাঠে নেমেছে জাপান।

২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ভ্যাক্সিনের ১০ লাখ ডোজ উৎপাদন ক্ষমতা প্রস্তুত করবে গবেষকদের একটি দল। জাপানের ভ্যাক্সিনটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের আরও কয়েকটি কোম্পানি কয়েকশ কোটি ভ্যাক্সিন ডোজ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু এ ভ্যাক্সিন জাপান আমদানি করতে পারবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই দেশটির সরকার সং’ক্রমণ সামাল দিতে ভ্যাক্সিন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশটি প্রথমে কেবল ২ লাখ ডোজ উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করছিল। পরে কাঁচামালের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে ভ্যাক্সিন উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ তাদের তৈরি ভ্যাক্সিনটির জন্য অনুমোদন পেয়ে যাবে বলে আশাবাদী তারা।

ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে চুক্তি করে অ্যানজিস ডিএনএ ভ্যাক্সিন তৈরি করছে; যাতে করোনা ভাইরাস থেকে জেনেটিক উপাদান নিয়ে রোগের বিরু’দ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা যায়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!