এখনই হাসপাতাল ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বললেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা সং’কটের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার নতুন পরিস্থিতি এবং সং’কট তৈরি হয়েছে। যা এখনই সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা যদি এখনই ঢেলে না সাজানো হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নতুন সং’কটের মধ্যে পড়বে।

তিনি বলেন, করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ার ফলে হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে। প্রায় সব হাসপাতাল এখন করোনা রোগী দিয়ে পরিপূর্ণ। এর ফলে যারা দীর্ঘমেয়াদি, জটিল এবং অসং’ক্রামক ব্যধিতে আক্রা’ন্ত, যেমন- কিডনি রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, হৃদরোগী, তাদের চিকিৎসা এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেক হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে যারা এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যধিতে আক্রা’ন্ত, তারা এখন নতুন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা এই সং’কটটাকে উ’পেক্ষা করছি। সামনে এটি আরও প্রবল এবং ভ’য়াবহ হতে পারে।

ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন, দেশে শুধু করোনা চিকিৎসা করলেই চলবে না। পাশাপাশি যারা জটিল কঠিন রোগে আক্রা’ন্ত এবং যাদের নিয়মিত হাসপাতাল কেন্দ্রিক চিকিৎসা পেতে হয়, তাদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করছি, অনেক হাসপাতাল কোভিড চিকিৎসা করতে গিয়ে এ ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক হাসপাতালে এখন ডায়ালাইসিস হচ্ছে না। কোথাও কোথাও কেমোথেরাপি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক হাসপাতালে এসব রোগীদের জ্বর মাপা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। একটু করোনার উপসর্গ থাকলেই তাকে বলা হচ্ছে, আপনি করোনার টেস্ট করে আসুন। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই জিনিসগুলো দুর্ভাগ্যজনক। এটি কাম্য নয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। কোভিড এবং নন কোভিড আলাদা করতে হবে। নন কোভিড যেদিক দিয়ে প্রবেশ করবে সেদিক দিয়ে কোভিড রোগীরা প্রবেশ করতে পারবে না। যদি একটু বড় হাসপাতাল হয় তাহলে কোভিড রোগীদের জন্য একটা পাশ এবং নন কোভিডদের জন্য একটা পাশ করতে হবে। রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন করে সুষ্ঠু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা করতে হবে এখনই।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, একজন নিশ্চিত কোভিড রোগী যখন চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, তখন তিনি রেড জোনে যাবেন। নন কোভিড চিকিৎসার জন্য যখন একজন মানুষ যাচ্ছেন, তখন তিনি গ্রিন জোনে যাবেন। যে মুহুর্তে তার কোনো উপসর্গ পাওয়া যাবে, তখন তাকে সরাসরি ইয়েলো জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার কোভিড পরীক্ষা এবং আনুষাঙ্গিক পরীক্ষাগুলো হবে। যদি দেখা যায়, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত নন, তখন তাকে আবার গ্রিন জোনে পাঠানো হবে। আবার যখন দেখা যাবে, তিনি আক্রা’ন্ত তখন তাকে রেড জোনে পাঠানো হবে।

এখন যেভাবে হাসপাতালগুলো চলছে তাতে অনেক রোগী হাসপাতালেই আক্রা’ন্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, যারা জটিল রোগে আক্রা’ন্ত, তাদের চিকিৎসা প্রচণ্ডভাবে ব্যা’হত হতে পারে। এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার। আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা যেন অন্যান্য রোগগুলোকে উ’পেক্ষা না করি। অন্যান্য রোগীরা যেন চিকিৎসা থেকে ব’ঞ্চিত না হয়। সামনের দিনগুলোতে করোনা রোগী বাড়তে থাকলে অন্যান্য অসুখে আক্রা’ন্তদের চিকিৎসা কীভাবে হবে, সেটি এখন এক জটিল বিষয়। সে কারণে এখনই অন্যান্য রোগে যারা আক্রা’ন্ত তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 725
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!