এখনও কেন ঢাকা অরক্ষিত?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত ১৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দেশের যে সমস্ত এলাকাগুলোকে রেড জোন চিহ্নিত করা হবে সেই সমস্ত এলাকাগুলোকে সাধারণ ছুটির আওতায় আনা হবে। সে সময় গণমাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত খবরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ঢাকা শহরে উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে ৪৭টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে। এরপর এই নিয়ে কথাবার্তা কম হয়নি। দুই মেয়রই বলেছিলেন, এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তারা এলাকাগুলোকে লকডাউন করবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, তারা জোন ম্যাপিংয়ের কাজ করছে এবং দু-একদিনের মধ্যেই তারা ঢাকা শহরের কোন কোন এলাকা রেড জোন হবে তা সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এটাও জানিয়েছিলেন, যে সমস্ত এলাকাগুলো রেড জোন হবে, সেই এলাকাগুলোতে লকডাউন নিশ্চিত করবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং সবগুলো এলাকায় রেড জোন হবেনা। কিছু কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকায়, যেখানে সং’ক্রমণ বেশি সেখানেই সবকিছু লকডাউন করা হবে। এই নিয়ে কথাবার্তা কম হয়নি। কিন্তু এমন ঘোষণার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকা শহরে লকডাউন বা রেড জোন কিছুই ঘোষণা হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২ দিন কবে শেষ হয় এই নিয়ে জনগণের মধ্যে যেমন প্রশ্ন ঠিক তেমনি কবে থেকে রেড জোন ঘোষণা হবে তাও ঠিক নেই। তবে এই নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিদিন রাতের বেলা দেশের বিভিন্ন জেলাতে লকডাউন দেওয়ার প্রেক্ষিতে মানুষের মাঝে একধরনের আত’ঙ্ক এবং অ’স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ একটি এলাকা লকডাউন করা হলে ঐ এলাকার মানুষের কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। তাদের খাবার-দাবারের বিষয়, কাজকর্মের বিষয়সহ অনেকগুলো জরুরী বিষয় নিষ্পন্ন করার থাকে। কিন্তু গত ২ দিনে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাগুলোতে যে লকডাউন করা হয়েছে তা রাতে ঘোষণা দিয়ে করা হয়েছে। এটার ফলে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঢাকার মানুষ মনে করছে যে এরকম হুটহাট করে যদি রাতের বেলা তাদের রেড জোন ঘোষণা দেওয়া হয় বা লকডাউন করা হয়ে তাহলে তারা সং’কটে পড়বে।

কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, এখনো ঢাকার জোন ম্যাপিং চূড়ান্ত হয়নি এবং তারা চূড়ান্ত করার পর এটা এটুআই দেখবে। এটুআই দেখার পর এটা সরকারের সর্বোচ্চ মহলের অনুমোদনের জন্য যাবে এবং তারপরে এটা অনুমোদন পাবে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এরকম লকডাউন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ।

আমরা যদি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখি তাহলে দেখা যাবে, করোনা সং’ক্রমণের সবথেকে বড় হটস্পট ঢাকা। বাংলাদেশে মোট সং’ক্রমণের প্রায় ২৫ শতাংশ শুধু ঢাকাতে। এই প্রেক্ষিতে ঢাকায় লকডাউন না করে দেশের অন্যান্য এলাকাগুলোকে লকডাউন করার যৌক্তিকতা কী- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা শহরের মানুষ চলাফেরা করছে, কাজকর্ম করছে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা। এরকম বাস্তবতায় ঢাকাকে কেন অরক্ষিত রাখা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন দ্রুত ঢাকার অতি সং’ক্রমিত এলাকাগুলোকে লকডাউন করা উচিত। কিন্তু সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা শহরের লকডাউন কার্যকর নিয়ে সরকারের মধ্যে কনফিউশন রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব রাজাবাজারে যে গত ১৪ দিন যাবত লকডাউন ছিল, সেই লকডাউনে খুব একটা ফল হয়েছে বলে মনে করেনা সরকার। এখন লকডাউন আরো ৭ দিনের জন্যে বাড়ানো হয়েছে, তাছাড়া এখন অর্থবছরের শেষ কয়েকটি দিন চলছে, এখন বিভিন্ন জায়গা লকডাউন করা হলে বাজেট এবং অর্থবছরের শেষ সময়ের কাজগুলো বি’ঘ্নিত হতে পারে। সবথেকে বড় কথা হচ্ছে রাজাবাজারের অভিজ্ঞতায় ঢাকায় লকডাউন কতটা সফল হবে তা নিয়ে সরকারের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

তবে যাই হোক না কেন ঢাকার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। কারণ ঢাকাই হচ্ছে করোনা সং’ক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর ঢাকায় সং’ক্রমণ যদি সীমিত না করতে পারা যায় তাহলে সারাদেশের সং’ক্রমণ সীমিত করা সম্ভব হবেনা।

শেয়ার করুন !
  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!