‘আল্লাহর রহমতেই হয়তো মেহনতি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি’

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে যারা বস্তিতে থাকেন, গরীব মানুষ, কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের মধ্যে করোনা সং’ক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে এখন পর্যন্ত কম। এর বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান করা হয়নি। এ ব্যাপারে একটি গবেষণা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে আমার অনুমান, হয়তো তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, করোনা একটি সাম্যবাদী ভাইরাস। গরীব-ধনী, রাজা-প্রজা, কাউকেই মানে না এই ভাইরাস। সবাইকেই ধরে। কিন্তু বাংলাদেশে একটি ব্যাপার খুব বিস্ময়কর লাগছে। তা হলো, করোনায় এখন পর্যন্ত গরীব মানুষের আক্রা’ন্তের হার অনেক কম। আমারা খবর যেটা পাচ্ছি গরীব মানুষ করোনায় কম আক্রা’ন্ত হচ্ছে। বিশেষ করে, যারা বস্তিতে, ফুটপাতে, গ্রামে থাকে, একসঙ্গে গাদাগাদি করে থাকে, হাটে-বাজারে পরিশ্রম করে, এ ধরনের মানুষের মধ্যে করোনা সং’ক্রমণের হার কম কেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষনা নাই।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, এর দুটো দিক রয়েছে। প্রথমত, হয়তো তাদের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম, তারা টেস্ট করায় না, তারা সচেতন নয়। আমি ক’দিন আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে লক্ষ্য করলাম, ফুটপাতে একজন মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি করোনায় ভ’য় পান কিনা। ওই ব্যক্তি উত্তর দিলেন, করোনা বড়লোকের রোগ। আমাদের মতো গরীবদের করোনা হবে না। এ ধরনের কিছু ধারণা এবং অ’সচেতনতা রয়েছে। যার ফলে এই মানুষগুলো পরীক্ষা করছে না।

তিনি আরও বলেন, করোনার একটা বড় অংশ হলো, মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গহীন। এ ধরনের মানুষের সারা বছরই উপসর্গ থাকে। তারা এসব উপসর্গকে উ’পেক্ষা করেন। যার ফলে বাংলাদেশে গরীব মানুষের মধ্যে করোনা আক্রা’ন্ত কম এ রকম বলার বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে নেই।

অবশ্য ডা. আব্দুল্লাহ এটাও বলেন, করোনা এখন পর্যন্ত যে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, গরীব মানুষের আক্রা’ন্তের হার অপেক্ষাকৃত কম। এর কারণ কী, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এটা হতে পারে, এটা সত্যি সত্যি আল্লাহর রহমত। আল্লাহর অশেষ কৃপায় তারা করোনায় আক্রা’ন্ত হচ্ছে না। বিজ্ঞানের সঙ্গে এই অবস্থাটা মেলে না।

দ্বিতীয়ত তিনি মনে করেন, প্রচুর কায়িক পরিশ্রম করেন, হাটে বাজারে ঘোরাঘুরি করেন এবং প্রচুর ঘাম ঝরান বলে হয়তো এই মানষগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। বড়লোকরা এসিতে থাকেন, ফ্রিজের পানি খান, কায়িক পরিশ্রম কম করেন, এজন্য তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। আরেকটা ব্যাপার হতে পারে, তারা যেহেতু প্রচুর রোদে থাকেন, সেজন্য তারা ন্যাচারাল ভিটামিন ‘ডি’ টা পান। এমন হতে পারে যে, ভিটামিন ‘ডি’ এর কারণে তারা করোনায় কম আক্রা’ন্ত হচ্ছেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, এগুলো সবই অনুমানভিত্তিক ধারণা। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট গবেষণা হওয়া দরকার। কারণ আমাদের করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অবস্থান কী, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 952
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!